ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা শেষ আটে সহজ জয় পেলেও বাংলাদেশের সাবেক তারকা গোলকিপার বিপ্লব ভট্টাচার্যের চোখে আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গতকাল ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আরও কঠিন হবে। কারণ এবারের ইংল্যান্ড দলটি বেশ অন্যরকম। আর এই দুই দলের দ্বৈরথের ইতিহাস অনেক পুরনো। সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড বিতর্ক- সবকিছুই মাঠে থাকবে। অবশ্যই আর্জেন্টিনার ডেপথ অনেক ভালো, দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে, আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ থেকে শুরু করে অ্যাটাকিং সাইড থাকবে। কিন্তু ইংলিশ টিমটা টোটালি অন্যরকম; এই বিশ্বকাপে টোটালি ডিফরেন্ট একটা দল আমার কাছে মনে হয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের জয় নিয়ে বিপ্লব বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড অসাধারণ ফুটবল খেলেছে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা রেড কার্ড খায়নি। ১০ জন নিয়ে খেলার চাপ নেয়া যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে যখন আপনি রেড কার্ড খেয়ে যাবেন, তখন অবভিয়াসলি আপনি চাপে পড়ে যাবেন।’ বিপ্লব বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা সুযোগ কাজে লাগাতে জানে। এই জয় তাদের মানসিকভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করবে। ইংল্যান্ডের বর্তমান ফর্ম এবং দুই দলের ফুটবলীয় ইতিহাসের উত্তেজনাপূর্ণ আবহ সেমিফাইনালকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে যা দর্শকদের জন্য দারুণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্ম দিতে যাচ্ছে।’ এছাড়াও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। বিপ্লব বলেন, ‘আলভারেজের গোলটা অসাধারণ ছিল এবং ওই গোলটি না হলে ম্যাচের শেষদিকে এমন ফলাফল হয়তো দেখতে পেতাম না।’ তবে রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ চিন্তার কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা গোল কনসিড করছে এবং ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে গোল খেলে কামব্যাক করা খুব টাফ হবে।’ ধারাবাহিকভাবে গোল খাওয়াটা শিরোপা প্রত্যাশী দলের জন্য বড় বাধা হতে পারে বলে মনে করেন বিপ্লব। এছাড়াও সুইস গোলকিপারের প্রশংসা করলেও আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি। তার বিশ্লেষণ, ‘অবশ্যই এই বিশ্বকাপটা টোটাল গোলকিপারদের আমার কাছে মনে হয়েছে। মেসি, এমবাপ্পে, এই কিছু খেলোয়াড় ছাড়া আপনি দেখেন টোটাল বিশ্বকাপের নজরকারা পারফরম্যান্স গোলকিপারদের। কুরাসাও থেকে শুরু করে আপনার কেপ ভার্দে, তারপরে হচ্ছে ডিআর কঙ্গো, জাপানের ও মেক্সিকোর গোলকিপারও ভালো খেলেছে। তবে মার্টিনেজের কথা বলেন, খুব একটা বলার মতো কিঠছু নেই।’ বিপ্লব বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলটা টোটালি ডিফরেন্ট এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো সব যোগ্যতা তাদের আছে। বেলিংহ্যাম কন্টিনিউয়াস পারফর্ম করে যাচ্ছে এবং সে এখন একদম ভালো শেপে আছে। এছাড়াও আছে হ্যারি কেইন ও রাইস।
ইংল্যান্ডের ডিফেন্স লাইন খুবই ভালো এবং মিডফিল্ড, প্রতিটা পজিশনে ভালো প্লেয়ার আছে। আর আর্জেন্টিনার ফোকাস করতে হবে নিজেদের ডিফেন্স লাইনকে নিয়ে। ডিফেন্স লাইন যদি তার বেস্ট পসিবল ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলে অবশ্যই আর্জেন্টিনার অ্যাটাকিং নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু এখনো ডিফেন্স লাইনে ভালো সমস্যা আছে।’ ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জেতেনি। এই সুযোগটি তারা হাতছাড়া করতে চাইবে না। বিপ্লব বলেন, ‘এই ম্যাচটি জিততে হলে আর্জেন্টিনাকে তাদের বেস্ট পসিবল ফুটবল খেলতে হবে। রক্ষণভাগে ভারসাম্য রাখা এবং মাঝমাঠে বেলিংহ্যামের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতা বিচারে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছি। আমার চোখে ইংল্যান্ড সেরা।’
