বুধবার আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় (স্থানীয় সময় রাত ৮টা) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচটি লিওনেল মেসিকে এনে দেবে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০-র বেশি ম্যাচ খেলে ১২৫ গোল করা আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি এর আগে কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। শনিবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে একসময় মনে হচ্ছিল, সেই অপেক্ষা হয়তো আরও দীর্ঘ হবে। তবে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয়ে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো গোল করতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তবুও আট গোল নিয়ে তিনি ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিবিসির বিশ্লেষক মাইকা রিচার্ডস বলেন, ‘ইংল্যান্ড হয়তো দৌড়ে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু তাদের দলে আছে সেই ছোট্ট জাদুকর- মেসি। পুরো দলই যেন তার জন্য খেলে। তাই এই ম্যাচ নিয়ে সবারই রোমাঞ্চিত হওয়া উচিত। তাকে মার্ক করা প্রায় অসম্ভব। কারণ সে পেছনে নেমে রক্ষণে সাহায্য করে না। বরং এমন সব ছোট ছোট জায়গায় অবস্থান নেয়, যেখানে তাকে খুঁজে পাওয়াই কঠিন। ঠিক সময়ে সে জ্বলে ওঠে। তার টেকনিক অসাধারণ, ফাঁকা জায়গা বোঝার ক্ষমতা দুর্দান্ত এবং শটও অসাধারণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, জুড বেলিংহ্যামের মতো তারও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতি রয়েছে। আর মেসির সেই উপস্থিতি অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে। তাই ম্যাচটি দারুণ আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে।’ ইংল্যান্ডের কতটা ভয় পাওয়া উচিত?
বিবিসি রেডিও লাইভে সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বলেন, ‘থমাস টুখেল এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা বর্তমান ফর্মের এই আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে থাকবে। কারণ এটি আর্জেন্টিনার সেরা দল নয়। তবে তাদের একটি বিশেষ গুণ আছে- যেভাবেই হোক জয়ের পথ বের করে নিতে পারে।’ বিবিসি স্পোর্টে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন রুনি বলেন, ‘রক্ষণে মেসির অবদান খুব বেশি না থাকলেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার গুণই পার্থক্য গড়ে দেয়। রক্ষণে মেসি আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা দুর্বলতা হতে পারে। কারণ সে পেছনে ফিরে আসে না। কিন্তু জুড বেলিংহ্যামের মতোই বড় ম্যাচের বড় মুহূর্তগুলোতে সে নিজের সেরাটা বের করে আনে। মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি তার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। ম্যাচের নির্দিষ্ট মুহূর্তে সে জেগে ওঠে এবং ঠিক সিদ্ধান্তটাই নেয়। মেসিকে সামলাতে হলে সবচেয়ে বেশি দরকার মনোযোগ ও সতীর্থদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। কারণ তাকে থামাতে গিয়ে অনেক সময় এমন জায়গা কভার করতে হয়, যেটা সাধারণত করতে হয় না।’ দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকারি বিবিসি রেডিও লাইভকে বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই খেলতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, “২০০-র বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর ইংল্যান্ডের মুখোমুখি না হয়েই লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হতে পারে না। কারণ আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ইংল্যান্ডই সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গ্যালারিতে সমর্থকেরা লাফাতে লাফাতে গাইছিল ‘যে লাফাচ্ছে না, সে একজন ইংরেজ।’ বুধবারের ম্যাচে এমন স্লোগান আরও অনেক বেশি শোনা যাবে।”
