কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। দলটির কোচ মুরাত ইয়াকিন মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের কারণেই ম্যাচটি শেষ হয়ে গিয়েছে। এম্বোলোর লাল কার্ড প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইয়াকিন বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি তারা (ফিফা) রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই নিয়মের কারণেই আজকের ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছে।’ সুইস কোচের দাবি, এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, ওটা হলুদ কার্ড দেয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। এটি বিপজ্জনক কোনো ফাউলও ছিল না। এই একটি সিদ্ধান্তই পুরো ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছে।’ কোচের মতোই ক্ষোভ ঝাড়েন সুইজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না রেফারি কী করছিলেন। এরকম পরিস্থিতিতে কেন তাকে কার্ড দেখানো হলো আমি বুঝতে পারছি না। প্রথমার্ধে এরকম ফাউল আরও অনেকগুলো হয়েছে। তাহলে তো সবাইকেই হলুদ কার্ড দেখাতে হয়।’ ভিএআরের যত্রতত্র হস্তক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রয়লার।
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না এরকম পরিস্থিতিতে ভিএআর কীভাবে একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। মাঠের রেফারিদের নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে দেয়া উচিত।’ লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন এম্বোলো। ম্যাচ শেষে ইয়াকিনের কাছে এম্বোলোর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুইস কোচ বলেন, ‘সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত। দলকে সে সহযোগিতা করতে পারেনি আজ। তার মতো আমরা সবাই ব্যথিত। এটা পুরোপুরি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত।’ এবারের বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করেছে ফিফা। এর মধ্যে অন্যতম ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সংশোধনের আইন। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার অনুরোধে নিয়মটি চালু করা হয়। এই নিয়মে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ৭১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এম্বোলো। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
