বাথরুম ব্রেকে ট্রফির ঝলক দেখেই ঘুরে দাঁড়ালেন নসকোভা

বাথরুম ব্রেকে ট্রফির ঝলক দেখেই ঘুরে দাঁড়ালেন নসকোভা

ফন্ট সাইজ:

জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল মাত্র ১টি পয়েন্ট। হাতের মুঠোয় ৫-২ ব্যবধানের লিড। ৫টি ম্যাচ পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও অবিশ্বাস্যভাবে দ্বিতীয় সেটটি হাতছাড়া হয়ে যায় ২১ বছর বয়সী লিন্ডা নসকোভার। চারপাশের গ্যালারির তুমুল চিৎকার আটকাতে দুই কানে আঙ্গুল চেপে, উইম্বলডনের স্ট্রবেরি-লাল তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকেও যখন মন শান্ত হচ্ছিল না, তখন কোর্ট ছেড়ে বাথরুম ব্রেকে যান এই চেক তারকা। আর সেখানেই ঘটে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়া সেই ম্যাজিক।
বাথরুম থেকে ফেরার পথে নসকোভার চোখে পড়ে উইম্বলডনের দুটি চকচকে ট্রফি- চ্যাম্পিয়নের জন্য নির্ধারিত বিখ্যাত ‘ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ’ এবং রানার্স-আপের ছোট ডিশটি। ম্যাচ শেষে সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে নসকোভা বলেন, ‘আমি মনে মনে নিজেকে বললাম, আমি ওই ছোট ডিশটা নিয়ে ঘরে ফিরবো না। আমি বড় ট্রফিটাই নেবো।

আমি জয়ের এত কাছে চলে এসেছি, এখান থেকে হারলে এটা সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হার্টব্রেক হয়ে থাকবে। তৃতীয় সেটে মাঠে আমি আমার সবটুকু ঢেলে দেবো, যা হওয়ার হোক।’ নিজের সেই প্রতিজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করলেন নসকোভা। শনিবার অল-চেক ফাইনালে স্বদেশী ক্যারোলিনা মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন তিনি। ৬ষ্ঠ ম্যাচ পয়েন্টে সার্ভিস উইনারের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত হতেই ঘাসের কোর্টে পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে পড়েন এবং দুই হাতে মুখ ঢাকেন তিনি। পরে প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেটের হাত থেকে ট্রফি নেয়ার সময় নসকোভা বলেন, ‘শেষ পয়েন্টটা পাওয়া কখনোই সহজ নয়। কারো (মুচোভা), তুমি ট্রফিটার জন্য আমাকে সত্যিই খাটিয়েছো।’

২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রোউশোভা এবং ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভার পর নসকোভা গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয় চেক নারী হিসেবে উইম্বলডনের ঘাসের কোর্টে রাজত্ব করলেন। ২০১১ সালে পেত্রা কভিতোভার পর তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী নারী হিসেবে এই শিরোপা জিতলেন। নসকোভার এই রূপকথার জয়ের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ৯ বারের উইম্বলডনজয়ী মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা ও ১৯৭৩ সালের চ্যাম্পিয়ন জান কোডেস।

তবে নসকোভার এই জয় সহজ ছিল না। দুই বছর আগে এই টুর্নামেন্ট খেলার ঠিক আগে তার মা মারা যান। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নসকোভা আকাশের দিকে চুমু ছুঁড়ে বলেন, ‘তিনি না থাকলে আজ আমি অবশ্যই এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। তাই তোমাকে ধন্যবাদ।’ তার এই আবেগঘন উক্তি শুনে গ্যালারিতে থাকা নাভ্রাতিলোভাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

রানার্স-আপ মুচোভাও নসকোভার প্রশংসা করে বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম ফাইনালে তুমি যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছ, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তুমি এটার যোগ্য।’ এই জয়ের পর র্যা ঙ্কিংয়ে ১২তে থাকা নসকোভা ক্যারিয়ারসেরা ৭ নম্বরে উঠে আসছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন