সেমিফাইনালের লাইনআপ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর ফ্রান্স মুখোমুখি হবে স্পেনের। শক্তির দিক থেকে বিচার করলে এই চারটি দলই এগিয়ে। আবার ফিফা র্যাঙ্কিং ধরলেও এই চার দলই এখন শীর্ষ চারে আছে। ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হয়েছে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে। এরপর বিশ্বকাপে কখনো এরকম সেমিফাইনাল লাইনআপ হয়নি, যেখানে চার শীর্ষ দলই ফাইনালে ওঠার লড়াই করবে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই ঘটনা ঘটেছে প্রথম। সর্বশেষ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ফ্রান্স আছে এক নম্বরে। এরপর আর্জেন্টিনা, তৃতীয় স্পেন ও চতুর্থ স্থানে আছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে এই অনন্য ইতিহাস গড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে টুর্নামেন্টের নতুন ড্র বিন্যাস ও কাঠামো। আসর শুরুর আগেই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে ড্রয়ের চারটি ভিন্ন গ্রুপ বা অংশে ভাগ করা হয়েছিল। সমীকরণ ছিল- তারা নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালের আগে কেউ কারও মুখোমুখি হবে না।
বিশ্বসেরা চার দলই সেই লক্ষ্য শতভাগ পূরণ করায় শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে দেখা মিলছে সেরা চার শক্তিরই। ড্রয়ের ছক অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে রাখা হয়েছিল ভিন্ন দুই ব্লকে। ফলে ফাইনালের আগে এই দুই পরাশক্তির দ্বৈরথের কোনো সুযোগ ছিল না। একইভাবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সও ছিল নকআউটের বিপরীত অংশে। নিজেদের পথ ধরে দাপটের সঙ্গে সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে সেরা চারের মঞ্চে হাজির হয়েছে তারা।
ফাইনালের টিকিট পাওয়ার এই মহারণে আগামী মঙ্গলবার মাঠে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর বুধবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ব্লকবাস্টার এই দুই সেমিফাইনাল ঘিরে বিশ্ব জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এখন টানটান উত্তেজনা। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালু হলেও সেবার বিশ্বকাপের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা হয়নি। এরপরের বিশ্বকাপগুলোতে বারবারই দেখা গেছে শীর্ষ দলগুলোর মুখ থুবড়ে পড়ার দৃশ্য। ২০০২ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে ইতালি, ২০১৪ সালে স্পেন, ২০১৮ সালে জার্মানি এবং ২০২২ সালে বেলজিয়াম শীর্ষ চারে থেকেও গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি।
