মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন। আকস্মিক অসুস্থতার পর স্থানীয় শনিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গ্রাহামের কার্যালয় এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
২০০২ সালে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হওয়া সাউথ ক্যারোলাইনার এই রাজনীতিক ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রভাবশালী পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন ছিলেন।
মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে তিনি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফর করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরের আগে তার কোনো শারীরিক অসুস্থতার তথ্য জানা যায়নি।
গ্রাহামের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে ট্রাম্প তাকে ‘সত্যিকারের একজন আমেরিকান দেশপ্রেমিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
গ্রাহাম সিনেটের বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইউক্রেনকে মার্কিন সহায়তার জোরালো সমর্থক ছিলেন। সর্বশেষ কিয়েভ সফরে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলের একটি সংস্করণ নিয়ে কাজ করছিলেন, যা তার ভাষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘এই যুদ্ধ শেষ করার প্রয়োজনীয় উপায়’ দেবে।
২০২৩ সালে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘পুতিন ইউক্রেনেই থামবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনে দুর্বলতা দেখানো মানে তাইওয়ানেও পরাজয়ের ঝুঁকি তৈরি করা।’
যদিও অতীতে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ ছিল। ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেসে হামলার পর সিনেটে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘ট্রাম্প ও আমি দীর্ঘ পথ একসঙ্গে চলেছি। এভাবে এর সমাপ্তি হোক, তা চাই না।’ তখন তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমাকে এর বাইরে রাখুন। যথেষ্ট হয়েছে।’
তবে পরবর্তীতে তিনি আবার ট্রাম্পের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থকে পরিণত হন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন। ২০২৩ সালে বিবিসিকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পের ‘একটি অন্ধকার দিক’ থাকলেও তিনি একজন ‘খুব ভালো প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন।
দক্ষিণ সীমান্ত নিরাপত্তা, ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড এবং রক্ষণশীল বিচারপতি নিয়োগের মতো বিষয় উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাহাম ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে তার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দুঃখজনক ও বিপজ্জনক ঘটনা’ এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে জিহাদিরা উল্লাস করেছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল হিসেবে দেখা হবে।
গ্রাহাম ছিলেন ইসরাইলেরও দৃঢ় সমর্থক। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিন্ডসি বুঝতেন যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য।’ তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল তার ‘সবচেয়ে বড় বন্ধুদের একজনকে’ হারিয়েছে।
