শেষ ৩২ থেকে নাটকীয় বিদায়ের পর প্রধান কোচ পাপে থিয়াওকে বরখাস্ত করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া থিয়াওয়ের অধীনে বিশ্বকাপে তেরাঙ্গা লায়নদের যাত্রা মোটেও সুখকর ছিল না।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই তারা ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হার দেখে। অবশ্য শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী অন্যতম সেরা দল হিসেবে কোনোমতে নকআউটে পা রাখে সেনেগাল। শেষ ৩২-এর নকআউট লড়াইয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সের চরম ব্যর্থতায় প্রথমে জোড়া গোল হজম করে তারা। এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল খেয়ে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় দলটি।
এমন ভরাডুবির পর দলের ভেতর অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘বর্তমান কোচিং স্টাফ বহাল থাকলে তিনি জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন না।’ অবশেষে ফেডারেশন এক মূল্যায়নের পর সেনেগালিজ ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে থিয়াওকে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি থিয়াওকে ঘিরে গত আফ্রিকান কাপ অব ন্যাশনস (অ্যাফকন) থেকেই বিতর্কের কালো মেঘ জমে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যাফকন ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টি দেয়ার প্রতিবাদে তিনি দল নিয়ে মাঠ থেকে উঠে যান। দীর্ঘ ১৭ মিনিট পর ম্যাচ পুনরায় শুরু হলে সেনেগাল জয় পায়। তবে মার্চ মাসে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ)।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেনেগাল বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও অ্যাফকনের বিতর্কিত অধ্যায়ের রেশ টেনেই শেষ হলো থিয়াওয়ের সেনেগাল মিশন।
