প্রথমবারের মতো সেমিতে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল, সফল ফিফার নতুন নিয়ম

প্রথমবারের মতো সেমিতে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল, সফল ফিফার নতুন নিয়ম

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো এবারের বিশ্বকাপে। এই প্রথম বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল একসঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে শেষ চারে পা রাখা এই চার পরাশক্তি হলো শীর্ষ চার র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা স্পেন (১), আর্জেন্টিনা (২), ফ্রান্স (৩) এবং ইংল্যান্ড (৪)। আগামী মঙ্গলবার প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন, আর বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।

শীর্ষ চার দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বড় ভূমিকা রেখেছে এবারের বিশ্বকাপের ড্রতে ফিফার আনা একটি বিশেষ নিয়ম। টুর্নামেন্টের শুরুতেই শীর্ষ চার দলকে ড্র’র চারটি ভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়, যাতে সেমির আগে তাদের একে অপরের মুখোমুখি হতে না হয়। তবে এই সমীকরণ মেলানোর জন্য দলগুলোর সামনে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শর্ত ছিল, যা তারা প্রত্যেকেই পূরণ করেছে।

ড্র’র এই নতুন বিন্যাসের কারণে সেমির আগে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে নকআউটের ভিন্ন দুই প্রান্তে থাকা ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের পথ এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে শেষ চারে ওঠার পর তারা যথাক্রমে স্পেন বা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারে।
ফিফা এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর মূল লক্ষ্য ছিল সেমি পর্যন্ত দুটি আলাদা পথ তৈরি করা। টেনিসের উইম্বলডন বা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের নতুন ফরম্যাটেও শীর্ষ বাছাইদের এভাবে জোড়ায় জোড়ায় আলাদা রাখার একই রকম নিয়ম দেখা যায়।

১৯৯৪ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু হলেও সে বছরের বিশ্বকাপে তা কার্যকর করা হয়নি। এরপর থেকে কোনো আসরেই শীর্ষ চার দল একসঙ্গে শেষ চারে পৌঁছাতে পারেনি। উল্টো বিগত আসরগুলোতে শীর্ষ চারে থাকা বড় দলগুলোর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়ার রেকর্ড রয়েছে।

এর মধ্যে ২০২২ সালে বেলজিয়াম, ২০১৮ সালে জার্মানি, ২০১৪ সালে স্পেন, ২০১০ সালে ইতালি এবং ২০০২ সালে ফ্রান্সের মতো দলগুলো রয়েছে। বাকি আসরগুলোতেও কোনো না কোনো শীর্ষ দল সেমির আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে।

ড্র’র এই নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ফিফা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখে। কর্মকর্তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নকআউট পর্বের শুরুতেই যাতে শীর্ষ চার দেশ একে অপরের মুখোমুখি হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে না যায়, এবং হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো যেন বিশ্বকাপের একদম শেষ মুহূর্তের জন্য জমা থাকে। এর আগের ৩২ দলের বিশ্বকাপ ফরম্যাটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা অন্তত শেষ ১৬র ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হতো না। ২০১০ সালের পর থেকে সেমির আগে শীর্ষ চার দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা কেবল একবারই ঘটে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারায় নেদারল্যান্ডস।

তবে ৪৮ দলের এই বর্ধিত ফরম্যাটে একটি অতিরিক্ত নকআউট রাউন্ড যুক্ত হওয়ায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের মধ্যে দ্রুতই দেখা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত ছিল। চলতি আসরের শেষ ১৬র ম্যাচগুলোতেই যেমন যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড বনাম মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়ার মতো বড় ম্যাচ দেখা গেছে। এই কারণে টুর্নামেন্টের জৌলুস এবং গ্ল্যামার ধরে রাখতে ফিফা নিয়মে এই পরিবর্তন আনে, যাতে শুরুতেই কোনো শীর্ষ দলকে হারাতে না হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন