ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার প্রতিষ্ঠাতা পরেশ বড়ুয়াকে বিপ্লবীর সঙ্গে তুলনা করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিতর্ক তৈরি করেছেন। আসামের জনপ্রিয় প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গের একটি ম্যুরাল ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। গুয়াহাটিতে শিল্পীর একটি মুরালকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, তিনি শিল্পীর ম্যুরাল অপসারণের কোনও নির্দেশ দেননি।
তবে তা যারা মুছে দিয়েছেন, তারা প্রকৃত অসমিয়া এটা বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন হিমন্ত। হিমন্তের ক্ষোভ, কেন চে গুয়েভারার মতো বিপ্লবীর আদলে আঁকা হবে প্রয়াত শিল্পীকে। তাছাড়া যদি বিপ্লবীর ছবিই আঁকতে হয়, তাহলে উলফা প্রতিষ্ঠাতা পরেশ বড়ুয়ার আঁকা উচিত। শুক্রবার গুয়াহাটির গণেশশুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এই নিয়ে মন্তব্য করেন হিমন্ত। তিনি জানান, এভাবে অন্যরকম করে জুবিনকে আঁকা যাবে না। কেবলমাত্র তার স্ত্রীর মনোনয়ন পাওয়া ছবিই আঁকা যাবে। এদিকে, ওই ম্যুরালটি মুছে দিলেও একই শিল্পী সেখানে জুবিনের আরও একটি ছবি এঁকেছেন ইতিমধ্যেই। সেই ছবি নিয়ে অবশ্য কোনও আপত্তি নেই, কেননা সেখানে চে গুয়েভারার ছায়া অদৃশ্য।
অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমন্ত জানিয়েছেন, ‘থানায় দেয়া জবানবন্দিতে দুই চিত্রশিল্পী জানিয়েছেন, ম্যুরালটি দেখতে জুবিন গর্গের মতো না হওয়ায় তারা সেটি মুছে ফেলেছেন। সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, এরা কিন্তু কোনও মুসলিম বা বাংলাদেশি ‘মিয়া’ নন, বরং তারা অসমিয়া চিত্রশিল্পী। যে ঠিকাদার কাজটি নিয়েছিলেন তিনিও একজন অসমিয়া এবং তারা তিনজনই জুবিনের ভক্ত।’
