বেলুচিস্তানে ভারতের ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরবে পাকিস্তান

বেলুচিস্তানে ভারতের ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরবে পাকিস্তান

ফন্ট সাইজ:

বেলুচিস্তানে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক ও জনবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। শুক্রবার জিও নিউজ-এর ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি কেবল রাজনৈতিক, আইন-শৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসবাদের সমস্যা নয়; বরং আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে ভারতের চাপিয়ে দেয়া একটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

রানা সানাউল্লাহ বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ভারতের বিরুদ্ধে সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপন করা হবে। তার দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে আফগানিস্তানকে পরিকল্পিতভাবে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে, বেলুচিস্তানে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ শুক্রবার আরও ১৭ জন ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে। এতে এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে পৌঁছেছে। মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসীরা পুলিশ চৌকিতে হামলা চালালেও পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং প্রাথমিক সংঘর্ষে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক লড়াইয়ে নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে, এরপর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সামরিক মুখপাত্র বলেন, আমাদের সন্তানরা জিম্মি ছিল। এই কারণে নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জিয়ারাত এলাকার পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের ঘিরে ফেলে। তার ভাষ্য, ৬ জুলাই থেকে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। পরে সন্ত্রাসীরা যখন বুঝতে পারে যে তাদের ঘেরাও করা হয়েছে, তখন এই কাপুরুষরা আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানান, মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং ওই অভিযানে ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এদিকে, নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলাও প্রতিহত করা হয়েছে। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও এফসি অভিযানে নামলে আরও আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ৫ জুলাই থেকে অপারেশন শাবান এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এছাড়া পৃথক হেলিকপ্টার অভিযানে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চলমান অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান সংক্রান্ত প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বেলুচিস্তানে ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ’ নির্মূলে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফিতনা আল-খাওয়ারিজের অশুভ পরিকল্পনা আমাদের নস্যাৎ করতে হবে। পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তানের শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের ‘পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী’ সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন