খাবারের খোঁজে আসা পাখিদের ‘মৃত্যুদণ্ড’

খাবারের খোঁজে আসা পাখিদের ‘মৃত্যুদণ্ড’

ফন্ট সাইজ:

খাবারের সন্ধানে গিয়েছিল তারা। হয়তো কয়েকটি দানা খেয়ে আবার উড়ে যাবে আপন নীড়ে, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনচক্র। কিন্তু সেই খাবারের খোঁজই যেন তাদের জন্য হয়ে উঠলো মৃত্যুফাঁদ। কয়েকটি খাবারের দানার আশায় গিয়ে মৃত্যুদণ্ডের শিকার হতে হচ্ছে পাখিদের। এমনই নির্মম-নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেছে ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহনী বাজার এলাকায়। ওই এলাকার একটি মুরগির খামারে ঢুকে বয়লার খাওয়ার দায়ে একের পর এক দেশীয় প্রজাতির শালিক ও দোয়েল পাখি হত্যা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চৌমুহনী বাজার এলাকার হাজী আব্দুল বারীর ছেলে ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দিন হাওলাদার। ওই এলাকার পূর্ব রমাগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে তার একটি মুরগির খামার রয়েছে।

সেখানে খাবারের আশায় প্রতিনিয়ত ছুটে যায় দেশীয় প্রজাতির পাখি। আর এই খাবারের সন্ধানে যাওয়াই কাল হয়ে উঠছে পাখিদের। খামার মালিক জামাল ফাঁদ হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে জাল উঠিয়ে রাখেন। এরপর যখন পাখিগুলো ভেতরে ঢুকে তখন তিনি জাল নামিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরে পাখিগুলোকে নির্মমভাবে হত্যা করে ভাসিয়ে দেয়া হয় পুকুর অথবা জলাশয়ে। গত বৃহস্পতিবার হত্যার শিকার অর্ধশত পাখির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরই স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। চৌমুহনী বাজারের মো. মাকসুদ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, জামালের খামারে পাখি মেরে ফেলে রাখা হয়েছে-এমন খবরে গিয়ে দেখি ১৬ থেকে ১৭টি পাখি মৃত পড়ে আছে। আরও ২০ থেকে ২৫টি জীবিত পাখিকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে আটকে রাখা পাখিগুলোকে মুক্ত করে দিই। এর আগেও তিনি বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু পাখি হত্যা করেছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে ভোলা উপকূলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলাল জানান, বন্য পাখি হত্যা করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমাদের লালমোহনের প্রতিনিধিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন