নাটকীয়ভাবে এগুচ্ছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। লুকোচুরি খেলার মতো পাল্টে যাচ্ছে সিংহাসন। ব্যক্তিগত পুরস্কারের এ দৌড়ে বাকিদের চেয়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেÑ এই দুই তারকার দ্বৈরথই যেন ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা। সময় গড়ানোর সঙ্গে ওঠা নামা করছে দু’জনের অবস্থান। এখন শীর্ষে এমবাপ্পে। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জাল খুঁজে নিয়ে লিওনেল মেসির পাশে বসেন ফরাসি তারকা। এবারের বিশ্বকাপে দু’জনেই সমান আট গোল করেছেন। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী অ্যাসিস্টের হিসেবে মেসিকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে। ফরাসি অধিনায়কের অ্যাসিস্ট দুটি। বিপরীতে মেসি করেছেন এক অ্যাসিস্ট। গল্পটা শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। ইয়াসিন বুনু শট অনায়াসে ঠেকিয়ে দেন।
এমবাপ্পে সেই ধাক্কা সামলে নেন আধা ঘণ্টার ব্যবধানে। ৬০তম মিনিটে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে অসাধারণ এক কার্লিং শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। এরপর ৬৬তম মিনিটে আবারো নিজেকে প্রমাণ করেন। এবার গোলদাতা নন, গোল তৈরির কারিগর হিসেবে। তার বাড়ানো বলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। গল্পটা এখানেই শেষ নয়। রোববার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে নামবেন মেসি। আছে শীর্ষে ফেরার সুযোগ। হিসাবের বাইরে নন নরওয়ের আর্লিং হালান্দ ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। ৭ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন হালান্দ। হ্যারি কেইনের ঝুলিতে আছে ৬ গোল। সুযোগ রয়েছে উসমান দেম্বেলেরও। আসরে ৫ গোল করেছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী এ ফরাসি উইংগার। গোল্ডেন বুটের বাইরে এমবাপ্পের সামনে আরও এক হাতছানি। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ২০। এ কীর্তি গড়েছেন মাত্র ২০ ম্যাচ খেলে। সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন মেসির (২১ গোল) থেকে মাত্র এক গোল দূরে। মেসি অবশ্য এই রেকর্ড গড়েছেন ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে, ৩১ ম্যাচে। ভেঙেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের ১৬ গোলের রেকর্ড।
