সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গেছে আগেই। এখন প্রশ্ন শুধু একটাইÑ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারবে তো বাংলাদেশ? হারারেতে আজ দুপুর দেড়টায় তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫ বছর পর ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশের মুখে টাইগাররা।
২০০১ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় আড়াই দশক। এই সময়ে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে টাইগাররা দাপট দেখিয়েছে। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতিও আছে বাংলাদেশের। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করা বাংলাদেশ এখন নিজেরাই ইতিহাসের সেই তেতো অধ্যায়ের মুখোমুখি।
প্রথম ওয়ানডেতে ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজÑচারজনই আউট হন বাজে শট খেলে। শেষ ৫০ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ খুইয়ে বসে সফরকারীরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও হারের বৃত্ত ভাঙেনি। ২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে ৩৭তম ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৯ রান তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান করেন ৭০ বলে ৫৭, হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ধৈর্যশীল ৬০, নুরুল হাসান যোগ করেন ৩৮। কিন্তু হৃদয়ের বিদায়ের পরই শুরু হয় ধস। মাত্র ৬৫ রানের মধ্যে বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে ৪৮.১ ওভারে অলআউট ২৩৪ রানে। ১৩ রানে হার বাংলাদেশের। দুই ম্যাচেই শুরুটা ভালো হলেও মাঝপথে প্রতিপক্ষের হাতে ম্যাচ তুলে দেন টাইগার ব্যাটাররা। বোলিং বিভাগও একই বৃত্তে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১৪৮/৬-এ বেঁধে রেখেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু সপ্তম উইকেটে বেন কারান ও ব্রাড ইভান্স অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটি ম্যাচের রং বদলে দেন। শেষ পাঁচ ওভারেই আসে ৬০ রান। স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ২৪৭ রানে। বেন কারান অপরাজিত থাকেন ১৩৫ বলে ১১১ রানে করে। হন ম্যাচসেরা। সবচেয়ে সফল তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট নেন ৫৭ রানে। শুরুতে চাপ তৈরি করেও ডেথ ওভারে গিয়ে সেই চাপ ধরে রাখতে না পারার এই দুর্বলতাই এখন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে বড় প্রশ্নবোধক।
সিরিজ শুরুর আগে ফর্মে ছিল টাইগাররা। জিম্বাবুয়েতে আসার আগে ঘরের মাঠে চারটি টানা দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল। সেই বাংলাদেশই বছরের প্রথম বিদেশ সফরে হোঁচট খেলো। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে যান লিটন দাস। তার জায়গায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে দলে ডাক পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন আজ একাদশে থাকতে পারেন। ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন আরেক পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। চার সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন তিনি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের জায়গায় দলে সুযোগ পান বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। চলতি বছর তাসকিন আহমেদ ১০টি ওয়ানডে খেলেছেন। যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চেয়েও বেশি। এখন পর্যন্ত তিনি নিয়েছেন ১৮ উইকেট। প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানা তার দুর্দান্ত গতি দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। তবে তাসকিন প্রথম দুই ওয়ানডেতে নতুন বলে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারকে পরীক্ষায় ফেলেন। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তিনি দুটি করে উইকেট নেন। হারারে পিচে অতিরিক্ত বাউন্স ও মুভমেন্ট থাকায় মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাসকিন বাংলাদেশ দলের জন্য এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন। এই বছর এখন পর্যন্ত ১০টি ওয়ানডে খেলে নাহিদ রানা নিয়েছেন ২৭টি উইকেট, যা এই ক্যালেন্ডার বছরে যেকোনো বোলারের চেয়ে বেশি। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হারারের উইকেট পেস বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। উভয় ম্যাচেই টসে জিতে বাংলাদেশ প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগায়। আজকের ম্যাচেও বড় রানের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। পেসাররাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। এই ওয়ানডে সিরিজে এখন পর্যন্ত মোট ৩৫টি উইকেটের পতন ঘটেছে, যার মধ্যে ২৮টিই নিয়েছেন ফাস্ট বোলাররা।
