টানা ৬ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দুই বোনসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) ও জেরিন (৭) নামে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে প্রায় ছয় ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। নিহত ঝর্ণা ও জেরিন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে।
জানা যায়, শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে নৌকাযোগে পারাপারের সময় প্রবল স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ঝর্ণাসহ তার দুই বোন সাওরিন মনি ও জেরিন পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা সাওরিন ও জেরিনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে ঝর্ণা স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ছয় ঘণ্টা অভিযান চালায়। পরে দুপুর ২টার দিকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর একটার দিকে ছোট্ট শিশু জেরিন মারা গেছে বলে জানান তার পিতা আবদুল মালেক।
এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ড মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে ওয়াকিম (২) বন্যার পানিতে ডুবে নিহত হয়। এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্প (৩)। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে ঘরের পাশে জমে থাকা বন্যার গভীর পানিতে পড়ে যায় ওয়াসিফ পুষ্প। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বন্যার পানি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুই শিশুর পরিবারে এখন চলছে মাতম।
নিহতরা হলো- চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়ন ৭ নম্বর মছনিয়াকাটা ডেবলতলী এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে তৌসিফ মিয়া (১৩) ও একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৭)। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভোররাতের দিকে মছনিয়া কাটা এলাকায় একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ পাদদেশে থাকা একটি বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে। ঘটনার সময় ঘরে দুই সন্তানসহ মা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই দুই শিশু মারা যায়।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, টানা ৬ দিনের এ পর্যন্ত ৫ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের কাছে নগদ ২০ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। অপরদিকে চাকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ২০ টন শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে উপজেলা থেকে।
