পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক কিশোরীর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে পুলিশের এনকাউন্টারে আটক অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল নিহত হয়েছেন। এই এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিচার বহির্ভূত এই হত্যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও সরব। অনেকেই উত্তর প্রদেশের যোগী মডেল পশ্চিমবঙ্গে চালু হলো বলে অভিমত দিয়েছেন।
প্রবল সমালোচনার মুখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারুইপুরকাণ্ডে এনকাউন্টারের তদন্তভার তুলে দিয়েছে রাজ্য পুলিশের সিআইডিকে। সিআইডি’র তদন্তে মূলত খতিয়ে দেখা হবে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হয়। সেই তদন্তপ্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সিআইডি’র তদন্তের পাশাপাশি ইতিমধ্যে যে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে তাও পাশাপাশি চলবে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং এনকাউন্টারের সময় উপস্থিত পুলিশকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনঃনির্মাণ করার জন্য অপরাধের অকুস্থলে গিয়েছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত প্রভাসের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কেলের (পিসি) ইনচার্জ রনি সরকার। পুলিশের দাবি, তার কোমর থেকে রিভলবার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পুলিশ তাকে ধাওয়া করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালান প্রভাস। পুলিশ জানিয়েছে, তখনই নিজেকে এবং সহকর্মীদের বাঁচাতে সার্ভিস রিভলবার দিয়ে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল।
তবে এই এনকাউন্টার নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ওইদিন রাতে তারা কোনো গুলির শব্দ শুনতে পাননি। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল। দুটি গুলিই শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।
