ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত কক্সবাজার

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত কক্সবাজার

ফন্ট সাইজ:

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের অর্ধশতাধিক ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে ডুবে রয়েছে। এ ছাড়া রামু, উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আরও কয়েক লাখ মানুষ। জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের ঘটনায় গত চারদিনে জেলায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার অধিকাংশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। গুরুত্বপূর্ণ সব নৌপথও বন্ধ রয়েছে। রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকাল থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি নেমে গেলে লাইন পরীক্ষা করে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলা শহরের হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, আলীরজাহাল, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তাল সাগরের কারণে টানা আটদিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী এবং পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা ও বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী- কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ঈদগাঁও ও মাতামুহুরী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়ার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি মাছের ঘেরে পানি আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নেয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ ছাড়া অপরিকল্পিত রেলপথের কারণে চকরিয়া থেকে ঈদগাঁও এবং রামু-কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এবার পানি আটকে থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত শুকনো খাবারের চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন