দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিপ ব্রেকিং শিল্পে নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগে চরম সংকটে পড়েছেন সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ড মালিকরা। চাঁদার দাবিতে রাস্তার উপর টিনের ব্যারিকেড দিয়ে টানা ২০ দিন পাঁচটি শিপইয়ার্ডে ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখার ঘটনায় অবশেষে রমজান আলী বলি নামে এক ব্যক্তিকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে তার সহযোগীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রমজান আলী বলি ও তার ভাই আরাফাত ১০-২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২১শে জুন রাস্তার উপর টিনের ব্যারিকেড দিয়ে বারাকা, সাগরিকা, বিওবি, জনতা ও ফোর স্টারসহ কয়েকটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে মালামাল পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
ফলে প্রায় ২০ দিন ধরে লোহাসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ থাকায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন উদ্যোক্তারা। বারাকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক আলহাজ সামছুল আলম বলেন, প্রশাসন, শিপ ব্রেকিং এসোসিয়েশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও দীর্ঘদিন কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। সাগরিকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক সিরাজুদ্দৌলা সওদাগর বলেন, চাঁদাবাজির কারণে শিল্পটি ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না।
পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার রাতে নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকা থেকে রমজান আলী বলিকে আটক করা হয়। পরে তাকে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় রমজান ও তার ভাই আরাফাতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আরাফাতকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, রাস্তা অবরোধ করে চাঁদাবাজি কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং অভিযানে কোনো শৈথিল্য থাকবে না। একসময় দেশের ইস্পাত ও রি-রোলিং শিল্পের প্রধান কাঁচামালের জোগানদাতা ছিল সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং শিল্প। কিন্তু শিল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ- চাঁদাবাজি, নিরাপত্তাহীনতা ও নানা প্রতিবন্ধকতায় বর্তমানে শিল্পটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
