নানা সমস্যায় সৈয়দপুর শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, সেবাবঞ্চিত শ্রমিকরা

নানা সমস্যায় সৈয়দপুর শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র, সেবাবঞ্চিত শ্রমিকরা

ফন্ট সাইজ:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটি নানা সমস্যায় ভুগছে। ফলে কোনো কাজে আসছে না কেন্দ্রটি। কেন্দ্রে চিকিৎসক পদ শূন্য ও পর্যাপ্ত ওষুধ না পাওয়ায় শ্রমিকরা পাচ্ছেন না চিকিৎসাসেবা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সৈয়দপুর পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের উপজেলা পরিষদের ৫০ গজ দক্ষিণ পূর্ব দিকে ৪২ শতক জমির ওপর শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা ও বিনোদনের জন্য শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। ওইসময় এ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার ও ৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। শুরু থেকেই মেডিকেল অফিসারসহ পর্যাপ্ত ওষুধ দিয়ে শ্রমিক কল্যাণে কাজ করা হলেও বর্তমানে তা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে স্থায়ীভাবে নিয়মিত ডাক্তার বসার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে ৫ বছর কন্ট্রাকের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অস্থায়ী নিয়োগকৃত ডাক্তারের কারণে অনেক শ্রমিক চিকিৎসাসেবা নিতেও পারছেন না।

অপরদিকে সেবার মান একেবারেই নিম্নমানের। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মরিয়ম নামের এক শ্রমিকসহ অনেকেই জানায়, কেন্দ্রটি গড়ে ওঠার পর প্রায় ৫/৬ বছর প্রতিদিন শত শত রোগী সেবা নিতে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে রোগীর সংখ্যা ১০ শতাংশে নেমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের একটি সূত্র জানায়, এমনিতেই কেন্দ্রটিতে কন্ট্রাকের মাধ্যমে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সরকার প্রতি বছর ওষুধের জন্য যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দেয়, সেই বরাদ্দের টাকায় ওষুধ ক্রয় করা হয় না।

ফলে সেবা নিতে আসা অনেক রোগী ওষুধ পেয়ে পরবর্তীতে আর সেবা নিতে আসে না ওই শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে। সরকার ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম তদারকি তেমন একটা না করার ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেবার কার্যক্রম। এ বিষয়ে জানতে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার না পেয়ে কথা হয় শ্রম কল্যাণ সংগঠক আব্দুল মালেকের সঙ্গে, তিনি বলেন, কেন্দ্রে জনবলের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসার নেই। শূন্য এই পদের জন্য ৫ বছর মেয়াদে একজন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে স্থায়ী ডাক্তার নিয়োগ না থাকায় রোগীর সংখ্যা যেমন কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে রংপুর শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের ডিজি সাদেকুজ্জামান জানান, শ্রমিকরা যে পর্যাপ্ত ওষুধ ও সেবা পাচ্ছেন না তা আমার জানা ছিল না। শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে কি কি সমস্যা আছে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন