কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজারে প্রায় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বাজার জুড়ে চলছে নানা আলোচনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছিনতাই হওয়া ইয়াবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কী ঘটেছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গত রোববার ভোরে কুতুপালং বাজার এলাকায় একটি ইয়াবার চালান ছিনতাই হয়। পরে বাজারের পাহারাদার আবছারসহ কয়েকজন ছিনতাই হওয়া ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল সওদাগরের কাছে জমা দেন। অভিযোগ রয়েছে, রুবেল সওদাগর ইয়াবাগুলো ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে ইয়াবাগুলো গণনা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, গণনার সময় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ওই ইয়াবার একটি অংশ স্থানীয় মামুনের কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে রুবেল সওদাগর বিভিন্নজনকে বলেন, ইয়াবাগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি, এ প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে পাহারাদার আবছারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল সওদাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, আমিও অনেকের কাছে শুনেছি সাধারণ সম্পাদক রুবেল সওদাগর ইয়াবাগুলো অফিসে নিয়ে গেছেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ইয়াবাগুলো তার কাছে জমা রাখা হয়েছিল। পরে যার ইয়াবা, সে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগও দেয়নি। ঘটনার পর থেকে কুতুপালং বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, যদি সত্যিই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে অন্যভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৩০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই, কুতুপালংয়ে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয় ঘিরে তোলপাড়
স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে
১১ জুলাই (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
