রাজনগরে বৃষ্টি ও ঢলে মনু নদীর দুই পয়েন্টে ভাঙন, নিহত ১

রাজনগরে বৃষ্টি ও ঢলে মনু নদীর দুই পয়েন্টে ভাঙন, নিহত ১

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের রাজনগরে উজানের বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদী বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের উজিরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় টেংরা, কামারচাক, রাজনগর ও মনসুরনগর ইউনিয়নের নদীপাড়ের প্রায় ৩০টিরও গ্রামের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি বাড়িঘরে উঠায় মানুষজন পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

এ ছাড়া পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে আকুয়া গ্রামের আশাই মিয়া (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সরজমিন ঘুরে ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মনু নদীর দু’টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকায় ভাঙন দিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া আশাই মিয়ার লাশ শুক্রবার সকালে ভাসমান পাওয়া যায়। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিতদের জন্য ২০ টন চাল, নগদ দেড় লাখ টাকা ও ২১০ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার তাৎক্ষণিকভাবে ৯০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। শুক্রবার বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দীন ও মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল রাজনগরের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

গত ৩ দিনের বৃষ্টি, উজানের পানি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের তারাপাশার টুপির মহল এলাকায় বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। মনু নদী বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধের ভেতরের বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। এতে রাজনগরের টেংরা, মনসুরনগর, কামারচাক ও রাজনগর ইউনিয়নের ৩০ টিরও বেশি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রাজনগরের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বৃষ্টি ও উজানের পানিতে মনু নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বেশি পানি হওয়ার কারণেই বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিতদের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সহযোগিতার জন্য চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্যাপরবর্তীতে ভাঙা বাঁধ কীভাবে মেরামত করা যায় সে বিষয়টি দেখা হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন