পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যা লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

ফন্ট সাইজ:

টানা ৬ দিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পূর্ব মেহেরনামা পশ্চিমপাড়া এলাকার বেড়িবাঁধের একাংশ ভেঙে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোমর সমান, কোথাও বুক সমান পানি জমে থাকায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বসতঘর, রান্নাঘর, মাছের ঘের, পুকুর ও কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।

১০ই জুলাই সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পেকুয়া পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। শুধু এ দুই এলাকাতেই প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এ ছাড়া অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বারবাকিয়া, শিলখালী ও টৈটং ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়নে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যা ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার উঁচু স্থানে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে, বাড়ছে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব মেহেরনামা পশ্চিমপাড়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সময়মতো সংস্কার করা হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেতো। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কয়েকটি সøুøুইসগেটে জাল বসিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় অনেক এলাকায় মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বন্যাকবলিত মানুষের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় এখনো পর্যাপ্ত সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে রয়েছেন অনেক পরিবার। স্থানীয়রা দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কাজ করছি। আপনারা তথ্য দিলে আমাদের টিম দ্রুত সহায়তা করবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।”

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন