মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ ডরমেটরিসহ সাতটি আবাসিক ভবনে বরাদ্দ না নিয়ে অবৈধভাবে থাকছেন বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ ছাড়া অবৈধভাবে ফ্ল্যাটগুলো দখলে রেখে থাকছেন তারা। এদের বেশির ভাগই দেন না বাসা ভাড়া। অথচ সরকারি কোয়ার্টারে থেকে বেতনের সঙ্গে বাসা ভাড়াও নিচ্ছেন তারা। কোয়ার্টারগুলোতে অবৈধভাবে কারা থাকছেন, কতোদিন ধরে থাকছেন- সেই তথ্যও নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম চললেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলজিইডি অফিসের অধীনে ডরমেটরি ও তিনটি কোয়ার্টার ভবন এবং বিআরডিবি অফিসের অধীনে তিনটি ভবন রয়েছে। ভবনগুলোর ফ্ল্যাটে কেউ সপরিবারে, কেউ ব্যাচেলর এবং কেউ কেউ কয়েকজন মিলে মেস করে থাকছেন।
এদের বেশির ভাগই নিয়ম অনুযায়ী বাসা বরাদ্দ নেননি। দিচ্ছেন না বাসা ভাড়া। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনের সঙ্গে বাসা ভাড়া বাবদ আলাদা টাকা পান। বিনা ভাড়ায় কোয়ার্টারে থেকে বাসা ভাড়ার টাকা পকেটে ভরছেন তারা। এতে মাসে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অথচ প্রতি বছর বিদ্যুৎ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণে ভবনগুলোর পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। বিআরডিবি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাদের অধীনে তিনটি ভবনের মধ্যে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী ভবনে যারা থাকেন তারা বিধি মোতাবেক বরাদ্দ নিয়েছেন এবং নিয়মিত ভাড়া দিচ্ছেন। এদের মধ্যে তাদের স্টাফই বেশি। তবে কপোতাক্ষ ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা ভূমি অফিসের শাহিন মিয়া, নির্বাচন অফিসের কাউসার, বাশার ও নাজমুল, পিডিবিএফ অফিসের আনোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী, গ্রাম আদালতের বোরহান ও মাসুম মিয়া এবং নিচতলায় আনসার সদস্যরা থাকছেন।
এই ভবনের সবাই বরাদ্দ না নিয়ে অবৈধভাবে থাকছেন। এদের কেউই বাসা ভাড়া দেন না। কবে থেকে কে থাকছেন, তার তথ্য নেই। অপরদিকে, এলজিইডি’র অধীনে থাকা ডরমেটরি ভবনসহ মেঘনা, পদ্মা ও তুরাগ নামের তিনটি ভবন রয়েছে। এসব ভবনে কারা থাকেন, কতোদিন ধরে থাকেন, কারও নামে বিধি মোতাবেক বরাদ্দ আছে কিনা বা কেউ ভাড়া দেন কিনা এসব কোনো তথ্যই নেই এলজিইডি অফিসে। তথ্য সংগ্রহ করে দেয়ার কথা জানালেও পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলী তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেঘনা ভবনে একটি ফ্ল্যাটে এসিল্যান্ড এবং দুইটি ফ্ল্যাটে মেস করে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন।
পদ্মা ভবনে সিএ মিলন হোসেন, শিক্ষা অফিসের দিলীপ, ইউএনও অফিসের রবিন, বিআরডিবি’র আবু হোসেন এবং এলজিইডি অফিসের কয়েকজন মেস করে থাকেন। অপরদিকে, তুরাগ ভবনে শামীমা এবং উপজেলা পরিষদের গাড়িচালক দিদার থাকেন। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর কবির সরকার জানান, আমরা জুন মাস পর্যন্ত কিছু বিদ্যুৎ বিল আদায় করেছি। ভবনের বিষয়গুলো নিয়ে এলজিইডি এবং ইউএনও স্যারের সঙ্গে সবার কথা হয়েছে। এখন এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উপজেলা প্রকৌশলী ও বাসা বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব মো. শাহীনুজ্জামান তার অধীনে থাকা ভবনগুলোর কোনো তথ্য তার দপ্তরে নেই বলে জানান। তবে তিনি তথ্য সংগ্রহ করে দেয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, সরকারি কোয়ার্টারের তথ্য দিয়ে আপনারা কী করবেন?
