শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের পথ আগলে ধরতে পারে না, যদি মনের ভেতর থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সততার সঙ্গে বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি। তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত খুলনার ফুলতলা উপজেলার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ কামাল হোসেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চায়ের দোকানদারি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। জানা যায়, প্রতিদিন নিয়ম করে গিলাতলার নিজ বাসভবন লাগোয়া দোকানে বসে চা তৈরি ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন কামাল। একটি ইলেকট্রিক কেটলি থেকে নিপুণ হাতে চা ঢেলে ক্রেতাদের পরিবেশন করার মধ্যদিয়ে চলে তার জীবনযুদ্ধ।
দোকানটি ছোট হলেও তার কর্মোদ্যোগ অনেক বড়। তবে কামালের প্রতিভা শুধু চা বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বুদ্ধির খেলা দাবায় ভীষণ পারদর্শী। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি মেতে ওঠেন দাবার বোর্ডে। দোকানে আসা ক্রেতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে দাবা খেলায় তার বুদ্ধির প্রশংসা এখন পুরো এলাকা জুড়ে। তার দোকানে আসা নিয়মিত ক্রেতারা জানান, কামালের হাতের চা যেমন সুস্বাদু, তেমনি তার অমায়িক ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে।
নিজের কাজ ও জীবনের সংগ্রাম নিয়ে কামাল হোসেন জানান, শারীরিক কারণে অনেক সময় কষ্ট হলেও তিনি চান না অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে। নিজের উপার্জনে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার এবং পছন্দের কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার মাঝেই তার তৃপ্তি। চাওয়া পাওয়ার কথা জানতে গেলে কামাল বলেন, সরকারি একটু অনুদানের ছোঁয়া পেলে তার দোকানটিতে আরও মুদি, মনোহরি এবং অন্যান্য মালামাল বিক্রয় করে জীবন জীবিকা আরও সচল করতে পারতেন। কামালের এই সংগ্রামী জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের আসল শক্তি তার মনে ও মেধায়, শরীরে নয়। তার এই আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রতিভার গল্প আজ সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য এক অনন্য বার্তা।
