কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ড শিবিরের দিকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ঠেলে দিলেন নরওয়ের আর্লিং ব্রুট হালান্দ। আগামীকাল মায়ামিতে থ্রি লায়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে হাসিমুখেই বৃটিশ মিডিয়াকে খোঁচা দিয়ে হালান্দ বলেন, সমস্ত চাপ এখন থমাস টুখেলের দলের ওপরই।
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়া নরওয়েজিয়ানরা এবার ইতিহাস গড়েছে। গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে আইভরি কোস্ট এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টারে পা রেখেছে তারা। অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ না জেতা ইংল্যান্ড গত তিনটি আসরে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে।
স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচে ফেভারিট কারা- এমন প্রশ্নে ২৫ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপর। টুর্নামেন্টে কিছু স্পষ্ট ফেভারিট দল আছে, ইংল্যান্ড তাদের অন্যতম।’ উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মজার সুরে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় আপনাদের সবার উচিত ইংলিশ ছেলেদের ওপর সম্ভাব্য সব ধরনের চাপ সৃষ্টি করা। হ্যাঁ, তাদের (ইংল্যান্ড সমর্থকদের) জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, কারণ ওটা ইংল্যান্ড!’
চলতি বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির (দুজনই ৮ গোল) ঠিক পেছনেই আছেন হালান্দ। গত বছর টাইম ম্যাগাজিনের কভারে যখন তিনি হাজির হয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন নরওয়ের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা মাত্র ০.৫%। তবে নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে খোদ হালান্দ নিজেই বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, নরওয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে থাকাটা আমার নিজের কাছেও বেশ আশ্চর্যজনক। নরওয়ের জন্য এটা মোটেও স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষ কিছু।
যুক্তরাষ্ট্রে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড দিয়েও আমেরিকানদের মন জয় করেছেন হালান্দ। আইভরি কোস্টকে হারানোর পর ডালাসে কাউবয় হ্যাট কিনতে যাওয়া বা আইস হকি ম্যাচ দেখতে যাওয়ার ভিডিও তার ইউটিউব চ্যানেলে মিলিয়ন-মিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে।
জীবনকে উপভোগ করার মন্ত্র জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটু মজা করতে ও হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করি। দৈনন্দিন জীবনে ভালো অনুশীলনের পাশাপাশি মুহূর্তটিকে উপভোগ করাও জরুরি। কেননা, কোনো কিছুই চিরকাল থাকে না।’
তবে হালান্দের এই মন্তব্যকে মনস্তাত্ত্বিক খেলা বা ‘মাইন্ড গেম’ হিসেবে দেখছেন তার সিটি সতীর্থ ও ইংল্যান্ড লেফট-ব্যাক নিকো ও’রাইলি। তিনি বলেন, ‘এটি মাইন্ড গেম হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, তারাও দারুণ দল। আর্লিং তো আর্লিংই। আমরা সবাই জানি ও কতটা বিপজ্জনক।’
ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ অ্যান্থনি ব্যারিও নরওয়েকে সমীহ করে বলেন, ‘মার্টিন ওডেগার্ডের মতো প্রিমিয়ার লীগ জয়ী অধিনায়ক যে দলে আছেন, তাদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।’
