টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩০ মিটার, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে জেলার ছাতক পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ছাতকে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলার তাহিরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে এ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে। এ সময়ে লাউড়েরগড় এলাকায় সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, রক্তি, পাটলাই ও বৌলাইসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে নদীর পানির প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার ১১ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক, নৌযান এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
