নরওয়ের কাছে শেষ ১৬তে হেরে ব্রাজিলের আকস্মিক বিদায় যেন কিছুতেই মেলাতে পারছেন না কিংবদন্তি রোমারিও। এমন ভরাডুবির পর কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সেলেসাওদের হয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডকে অবিলম্বে ছাঁটাইয়ের জোর দাবি তুলেছেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারকে জুনিয়রকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা কিংবা ব্রুনো গিমারায়েসকে পেনাল্টি দেয়ার মতো আনচেলোত্তির বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এই ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ৬০ বছর বয়সী রোমারিও। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির ওপর আস্থা রাখলেও, রোমারিওর সুর একেবারেই ভিন্ন।
সিবিএফ সভাপতি হলে কী করতেন, তা স্পষ্ট করে রোমারিও বলেন, “আমি সিবিএফের প্রেসিডেন্ট হলে, চুক্তি বাতিল করতাম। চুক্তি বহাল থাকার কোনো সুযোগই নেই। ম্যাচ শেষে আমি ড্রেসিং রুমে যেতাম এবং বলতাম- ‘ঠিক আছে, আপনাদের অনেক ধন্যবাদ, বিদায়। বিষয়টি আদালতে নিয়ে যান, তারপর আমরা দেখব কী হয়।’ যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তিনি আমাদের ফেলেছেন, এরপর আর তার ব্রাজিল দলের কোচ থাকার সুযোগ নেই।”
ম্যাচে আনচেলোত্তির ট্যাকটিকস নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক এই তারকা বলেন, ‘সে কী ভাবছিল আমি তো সেটাই বুঝতে পারলাম না। একজন ফুলব্যাক চোট পেল আর আপনি সেখানে একজন সেন্টারব্যাককে (এদেরসন) নামিয়ে দিলেন?’
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘হেরে গেলেই বিদায়’ সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের দুঙ্গা ছিল, সে হেরেছে এবং চলে গেছে। আমাদের তিতে ছিল, সে হেরেছে, থেকে গেছে এবং আবারও হেরেছে। আর এখন আমাদের এই আনচেলোত্তি আছে, যে হেরেছে এবং এখনো থেকে যাচ্ছে। এটা হতে পারে না, পরিবর্তন করতেই হবে।”
রোমারিও মনে করেন, আনচেলোত্তি বিদেশি বলেই সিবিএফ ও সমর্থকরা এবার নরম সুর দেখাচ্ছেন, যা কোনো স্থানীয় কোচের ক্ষেত্রে ঘটত না। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা ২০০২ সালের পর তাদের হেক্সা জয়ের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত করলো।
