জলদস্যুর মতো খায়, মেশিনের মতো করে ট্রেনিং

নরওয়েও আর্লিং হালান্দ

জলদস্যুর মতো খায়, মেশিনের মতো করে ট্রেনিং

ফন্ট সাইজ:

শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। আর ইংলিশ ডিফেন্ডারদের থামাতে হবে নরওয়ের রেকর্ড গড়া গোল মেশিন আর্লিং হালান্দকে। ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার চলতি বিশ্বকাপে খেলছেন দুর্দান্ত ফর্মে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করার ম্যাচে জোড়া গোলসহ টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। ১৯২ পাউন্ড ওজন এবং ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই তারকা মাত্র ৫৪ ম্যাচে দেশের হয়ে করে ফেলেছেন ৬২ গোল। ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকারকে মাঠে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে তার এক অনন্য এবং কঠোর দৈনিক রুটিন।

মাঠে অপ্রতিরোধ্য হালান্দ প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করেন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিনগুনের বেশি। তার এই প্রাচীন বা ‘অ্যানসেস্ট্রাল’ ডায়েটের মধ্যে রয়েছে গরুর কলিজা, হৃৎপিণ্ড এবং কিডনি। এই চর্বিযুক্ত তোমাহক স্টেক, রিবআই এবং লিভারের মতো খাবার থেকে তিনি প্রয়োজনীয় ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি, আয়রন ও ফসফরাস পান। খাবারের মানের ব্যাপারে তিনি ভীষণ সচেতন এবং খামারের ঘাস খাওয়া গরুর মাংসই তার প্রথম পছন্দ।


হালান্দ প্রতিদিন ১ হাজার সিট-আপ এবং ৩০০ প্রেস-আপ করেন। এর পাশাপাশি চলে ওয়েট ট্রেনিং, রোয়িং ও স্প্রিন্ট। ক্লান্তি দূর করতে ও পেশি সতেজ রাখতে তিনি আইস বাথ, সাউনা এবং রেড লাইট ইনফ্রারেড ট্রিটমেন্ট নেন। হালান্দ জানান, আপনি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন, কিন্তু মনকে বলতে হবে আপনি ক্লান্ত নন। এটি সম্পূর্ণ একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। নিজেকে শতভাগ ফিট রাখতে তিনি ঘুমকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন। ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগে থেকেই তিনি ফোন এবং যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকেন এবং কৃত্রিম আলো প্রতিরোধে বিশেষ ব্লু ব্লকিং চশমা ব্যবহার করেন। এমনকি রাতে মুখ বন্ধ রেখে কেবল নাক দিয়ে শ্বাস নিশ্চিত করতে ঠোঁটে বিশেষ আঠালো টেপ লাগিয়ে ঘুমান।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই হালান্দ শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে কিছুক্ষণ সূর্যের আলো গায়ে মাখেন। এরপর কাঁচা দুধের সাথে কফি মেশানো তার প্রিয় একটি ‘সুপারফুড’ পানীয় দিয়ে দিন শুরু করেন। প্রাতঃরাশে থাকে খাঁটি মধু, ডিম এবং ময়দার তাজা রুটি। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি তার এই বিশেষ নিবেদন ছিল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে খেলা তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্দ জানান, ছেলে ছুটির দিনেও টানা আট ঘণ্টা করে অনুশীলন করত, তাকে কখনো জোর করতে হতো না। মাঠে তীব্র চাপ সামলে এবারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে দারুণ উপভোগ করছেন এই ফুটবলার, যার লক্ষ্য কেবল বিশ্বমঞ্চে নিজের সেরাটা দিয়ে যাওয়া।
সূত্র: দ্য সান

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন