ব্যবধান দ্বিগুণ করল ফ্রান্স!
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি ফ্রান্সের হাতে! কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও গোলের দেখা পেল দিদিয়ে দেশমের শিষ্যরা। এবার গোলদাতা উসমানে দেম্বেলে!
৬৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে পড়েন দেম্বেলে। এরপর ক্ষিপ্রতায় ডানদিকে কাট করে নিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না বলটি আটকানোর!
মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে নিল ফ্রান্স! ডাগআউটে এখন উৎসবের আমেজ! দেম্বেলে তার শেষ পাঁচ ম্যাচে পাঁচটি গোল করেছেন।
কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে আটটি গোল করেছেন। তবে খুব বেশি পিছিয়ে নেই উসমানে দেম্বেলেও। এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। এমবাপ্পের সাথে মিলে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিধ্বংসী জুটি।
অবশেষে ফ্রান্সের গোল!
দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙার চেষ্টার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেল ফ্রান্স। ৬০ মিনিটে বক্সের ওপরের বাঁ-দিকের কোণা থেকে দুর্দান্ত এক ডান পায়ের শটে বলটি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে! দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিলেন এই ফরাসি সুপারস্টার। এই গোলটির মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিলেন এমবাপ্পে। বর্তমানে মেসি-এমবাপ্পে উভয়েরই গোল সংখ্যা আটটি।
এই ম্যাচে এমবাপ্পের গোলটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ গোল, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম।
প্রথমার্ধ (৪৫ মিনিট শেষে)ফ্রান্স ০ – ০ মরক্কো
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে মরক্কোর আশরাফ হাকিমি একটি ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন, কিন্তু বলটি গোলপোস্ট থেকে অন্তত তিন মিটার বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপরই বাঁশি বাজিয়ে প্রথমার্ধের খেলা শেষ ঘোষণা করেন রেফারি।
পুরো প্রথমার্ধে ফ্রান্সই তুলনামূলকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং আক্রমণে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে ফ্রান্সের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার মুহূর্ত ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস করা। গোল করার সেই সহজ সুযোগটি তিনি হাতছাড়া করেছেন।
অন্যদিকে, গোল না খেলেও মরক্কো এই মুহূর্তে বেশ স্বস্তিতে আছে। মাঠের লড়াইয়ে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও, রক্ষণভাগে দারুণ লড়ছে মরক্কো।
২৮ মিনিট: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
পেনাল্টি মিস! ফরাসি শিবিরকে স্তব্ধ করে দিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্বল পেনাল্টি রুখে দিলেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু। এমবাপের রান-আপে কিছুটা দ্বিধা বা জড়তা ছিল, যার ফলে শটটিতে কোনো জোরালো পাওয়ার ছিল না। বুনু খুব সহজেই তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি তালুবন্দী করেন। এই পেনাল্টি সেভের পরপরই রেফারি প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজান।
১৩ মিনিট: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
ফ্রান্স বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখনই আক্রমণের চেষ্টা করছে, গ্যালারি থেকে ভেসে আসছে তীব্র শিস আর দুয়োধ্বনি। তবে মরক্কো পাল্টা আক্রমণে গেলেই সেই দুয়ো রূপ নিচ্ছে গগনবিদারী উল্লাসে। এবার মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ বল নিয়ে দ্রুত গতিতে ফরাসি রক্ষণে হানা দিলেও দারুণভাবে কামব্যাক করেন জুলেস কুন্দে। নিজের শারীরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ট্যাকলে দিয়াজকে বল থেকে ছিটকে দেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার।
৬ মিনিট: ফ্রান্স ০-০ মরক্কো
ম্যাচের শুরুতেই আরও একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হলো ফ্রান্সের। বাঁ প্রান্ত থেকে নিখুঁতভাবে বক্সে ওড়ানো একটি বলে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় লাফিয়ে উঠে জোরালো হেড করেন ফরাসি ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানো। তবে মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু দারুণ দক্ষতায় বলের গতিপথ পড়ে ফেলেন এবং চমৎকার এক সেভে সে যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন।
মুখোমুখি মরক্কো-ফ্রান্স
সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফেবারিট ফ্রান্স। অ্যাটলাস লায়নদের বিপক্ষে ৬ বারের দেখায় এখনো হারেনি ফরাসিরা। ৬ ম্যাচে তাদের জয় ৪ ম্যাচে, বাকি ২ ম্যাচ ড্র।
বস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফরাসি শিবিরে মূল দুশ্চিন্তা অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির ফিটনেস। তবে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে আছেন এই মিডফিল্ডার। সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের পর কুঁচকির চোটে পড়া রিয়াল মাদ্রিদ তারকা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ১৬র ম্যাচে খেলতে পারেননি।
কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম ও উসমান দেম্বেলে-মাইকেল ওলিসদের উপস্থিতিতে ফরাসিদের আক্রমণভাগ বেশ ছন্দে রয়েছে। আক্রমণভাগের বাঁ-প্রান্তে ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় তরুণ দেজিরে দুয়ে-কে শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়েছেন দেশম।
মরক্কোকে হারানোর মিশন ছাড়াও ফ্রান্সের সামনে রয়েছে কার্ডের বড় খড়গ। দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ তারকা— মাইকেল ওলিসে, মানু কোনে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা প্রত্যেকেই একটি করে হলুদ কার্ডের খড়গের নিচে আছেন। এই ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড পেলেই তারা সেমিফাইনাল থেকে নিষিদ্ধ হবেন।
অভিজ্ঞতা এবং শক্তিমত্তায় ফরাসিরা এগিয়ে থাকলেও, গতিশীল ফুটবলে সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে দেশমের শিষ্যদের মাথা ঠান্ডা রেখেই মাঠে লড়তে হবে।
গত আসরে এই ফ্রান্সের কাছেই সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেয় মরক্কানরা। আজকের লড়াই তাই তাদের জন্য প্রতিশোধের।
ফ্রান্স একাদশ: মাইক মেনিয়ঁ, জুলস কুন্দে, উইলিয়াম সালিবা, দায়োত উপামেকানো, লুকাস দিনিয়ে, আদ্রিয়াঁ রাবিও, দেজিরে দুয়ে, মানু কোনো, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মরক্কো একাদশ :ইয়াসিন বুনু, নুসাইর মাজরাউয়ি, আনাস সালাহ-এদ্দিন, ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, আইয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আয়নাউয়ি, ব্রাহিম দিয়াজ, আজ্জেদিন উনাহি শেমসদিন তালবি, বিলাল এল খান্নুস।
