মেহেরপুরে শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে জামাতার যাবজ্জীবন

ফন্ট সাইজ:

মেহেরপুরে শাশুড়ির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে হাউস আলী নামের একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (আমৃত্যু পর্যন্ত) ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় ৭-৮ বছর পূর্বে গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলী ছেলে হাউস আলীর সঙ্গে সহড়াবাড়িয়া গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে বিবাহ হয়। বিয়ের পর হাউস তার স্ত্রীকে অত্যাচার করাসহ ভরণপোষণ দেয়া থেকে বিরত থাকতেন।

ফলে আম্বিয়া তার স্বামীকে তালাক দেন। এতে হাউস ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৬ সালের ৭ই মে রাতে সহড়াবাড়িয়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হয়। ওই সময় সে তার স্ত্রীর খোঁজ করতে থাকে। ওইদিন তার স্ত্রী নির্বাচনী ডিউটি করার জন্য গাংনীতে অবস্থান করে। এদিকে হাউস তার স্ত্রীকে না পেয়ে তার শাশুড়ি ফুল সুরাতুন্নেছা (৬৬) এর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


ওই ঘটনায় নিহতের মেয়ে আম্বিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যে আসামি হাউস দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামি পক্ষে এডভোকেট শহিদুল ইসলাম কৌঁসুলি ছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন