আর্লিং হালান্দে ছুটছে নরওয়ে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বাজির ঘোড়া হ্যারি কেইন। দু’জনই বিশ্ব ফুটবলের নন্দিত তারকা। শনিবার রাতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে বিদায় নেবেন একজন। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল হলেও বাস্তবে এটি দুই মহারথীর ব্যক্তিগত লড়াই বটে!
২০২১ সাল। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়ার গুঞ্জন হ্যারি কেইনের। সেই চুক্তি পরে আলোর মুখ দেখেনি। পরের বছর সিটিজেনদের ডেরায় পা রাখেন আর্লিং হালান্দ। যোগ দিয়ে দলটিকে ট্রেবল জেতাতে রাখেন বড় ভূমিকা। সেই সময় ট্রফিহীন টটেনহ্যামের নেতৃত্বে কেইন। মনে হচ্ছিলো কেইন বোধহয় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি। ২০২৩ সালে কেইন পাড়ি জমান জামার্নিতে। যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখে। জেতেন দুটি বুন্ডেসলিগা শিরোপা আর ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু। বায়ার্নে যোগ দেয়ার পর প্রতি মৌসুমে হালান্দের চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেইন। ব্যালন ডি’অর দৌড়েও ছিলেন সামনের
সারিতে। এবারের বিশ্বকাপেও করেছেন ৬ গোল। আর হালান্দ? নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কেইনকে ছাড়িয়ে গেছেন। করেছেন ৭ গোল। ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তৃতীয় স্পর্শেই গোল করেছিলেন কেইন। সেই থেকে থামেননি। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৫ গোল করেছেন। যা ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ। এই বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২টি করে গোল করেন।
পানামা ও মেক্সিকোর
বিপক্ষে কেইন করেছেন ১টি করে মোট ৬ গোল করেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে ১২০ তম ম্যাচ খেলতে নামবেন ৩২ বছর বয়সী এ ফুটবলার। ওয়েইন রুনিকে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্যাপধারী হবেন কেইন। তার সামনে কেবল পিটার শিলটন (১২৫ ম্যাচ)। ইংল্যান্ডের গোলমেশিন যদি কেইন হন তবে নরওয়ের ত্রাণকর্তা হালান্দ। দেশটির হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬২ গোল করেছেন হালান্দ। গড়প্রতি ৭১ মিনিটে এক গোল। জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৪ ম্যাচে গোল পেয়েছেন তিনি। এই বিশ্বকাপে চার ম্যাচ খেলেছেন। সব ম্যাচেই করেছেন জয়সূচক গোল। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোলে একাই সেলেসাওদের বিদায় করেছেন। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্রামে ছিলেন। নয়তো গোলের সংখ্যাটা ৭ থেকে আরো বাড়তে পারতো। হালান্দ কেবল গোলমেশিন হিসেবেই নয়, সুযোগ তৈরিতেও অনন্য। পরিসংখ্যান এমনটাই বলে। এই বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য ৬টি সুযোগ তৈরি করেছেন হালান্দ। কেইনের তুলনায় বেশি ৪টি। তবে সামগ্রিক দলীয় অবদানে কেইন এগিয়ে। মেক্সিকোর বিপক্ষে জুড বেলিংহামকে গোল করিয়েছেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ে হালান্দের চেয়ে দ্বিগুণ সুযোগ ও বেশি ড্রিবল করেন কেইন। দু’জনের খেলার ধরণে রয়েছে পার্থক্য। পুরো মাঠ চসে বেড়ান কেইন। বিপরীতে প্রতিপক্ষের
পেনাল্টি বক্সের আতঙ্ক
হালান্দ। সিটিতে তিন মৌসুমে তার অ্যাসিস্ট ২৪টি, বায়ার্নে কেইনের ২৬টি। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে কেইনকে ছাড়িয়ে গেছেন হালান্দ। নরওয়ে যেখানে হালান্দ নির্ভর সেখানে ইংল্যান্ডের শক্তি দলীয় ভারসাম্য। হালান্দ গোল না করলে নরওয়ে তিনটির মধ্যে একটির কম ম্যাচ জেতে। এই বিশ্বকাপই যার বড় প্রমাণ। হালান্দকে বিশ্রাম দেয়া হয় ফ্রান্স ম্যাচে। সেই ম্যাচে নরওয়ে হারে ৪-১ গোলে। অর্থ্যাৎ, হালান্দকে থামাতে পারলেই থামবে নরওয়ে। ২০২৩ সালে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কেইন ও হালান্দ ক্লাব পর্যায়ে দু’বার মুখোমুখি হন। প্রথম ম্যাচে ইতিহাদে সিটি জিতেছিল ৪-২ গোলে। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সিটির সেই প্রত্যাবর্তনে সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন হালান্দ। দ্বিতীয় ম্যাচে কেইনের একমাত্র গোলে জিতেছিল টটেনহ্যাম।
