‘স্পেনকে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে’

‘স্পেনকে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে’

ফন্ট সাইজ:

লস অ্যানজেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে আজ রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই শক্তি স্পেন এবং বেলজিয়াম। শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে স্পেন। অন্যদিকে বেলজিয়াম দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৪-১ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্রকে। লস অ্যানজেলেসের আজকের এই ম্যাচটিতে কৌশলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখতেও মুখিয়ে সমর্থকরা। ম্যাচের আগে দু’দলের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবলের দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই এটি। একদিকে বেলজিয়ামের শারীরিক সক্ষমতা ও গতির আধিপত্য, অন্যদিকে স্পেনের কৌশলী ফুটবল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেলজিয়ামের লড়াকু মানসিকতা এবং তাদের ট্রানজিশনাল গেম বা দ্রুত রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার দক্ষতা তাদের কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রেখেছে। আমার ধারণা, এই ম্যাচে গতির লড়াইয়ে বেলজিয়ামের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’
চুন্নু বলেন, ‘‘বেলজিয়ামের বড় শক্তি হলো তাদের অ্যাটাকিং থার্ড বা আক্রমণভাগে খেলোয়াড়দের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং। তারা খুব বেশি পাসিং বা ধীরস্থির ফুটবলের চেয়ে সরাসরি আক্রমণে বিশ্বাসী। তাদের উইংপ্লে এবং বক্সে ক্রস পাঠানোর সক্ষমতা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার জন্য যথেষ্ট। বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু এবং স্পেনের লামিন ইয়ামাল এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। বেলজিয়ামের আক্রমণভাগে রোমেলু লুকাকু একজন প্রকৃত ‘গোল গেটার’। তার শারীরিক উপস্থিতি এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতা যেকোনো রক্ষণভাগকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম।

অন্যদিকে, স্পেনের উদীয়মান প্রতিভা লামিন ইয়ামাল বর্তমান ফুটবলের এক বিস্ময়। তার ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা স্পেনের খেলার প্রাণ। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ যদি ইয়ামালকে নিষ্ক্রিয় রাখতে পারে, তবে জয়ের পথ সহজ হবে। এছাড়া কেভিন ডি ব্রুইনা এবং রদ্রি মাঝমাঠে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে কতটা সক্ষম হন তাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ম্যাচটি বেশ জমজমাট হবে।’’

স্পেনের কৌশলী ফুটবল নাকি বেলজিয়ামের ট্রানজিশনাল গেম, শেষ পর্যন্ত কার কৌশল জয়ী হয় সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মাঠের লড়াইয়ে কেভিন ডি ব্রুইনা কিংবা লামিন ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সেই রূপ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু। বিশেষ করে রক্ষণভাগে স্পেনের দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও শেষ ম্যাচে পর্তুগালকে হারালেও স্পেনকে বেশ ক্লান্ত মনে হয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘স্পেনের ঐতিহ্যগতভাবে ছোট পাস এবং বল পজিশনের যে ফুটবল, সেখান থেকে তারা কিছুটা সরে এসেছে। তাদের শুধু আক্রমণ নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের গভীরতা নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। বেলজিয়ামের মতো গতিময় দলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ভুলগুলো তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। ম্যাচটি জিততে হলে স্পেনকে অবশ্যই আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে হবে।’ চলতি বিশ্বকাপের রেফারিং নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ বিষয়ে চুন্নু বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার বা ভিএআর একটি জটিল বিষয়। আমি মনে করি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রেফারির সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ছিল। আর্জেন্টিনা বা অন্য ম্যাচগুলোতে যে বিতর্ক হয়েছে, তা রেফারির চেয়ে ভিএআর প্রোটোকল এবং প্রযুক্তির ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা থেকেই বেশি এসেছে। মাঠে রেফারিরা ফিফার করা নির্দেশনাই পালন করছেন। তাই সামগ্রিকভাবে রেফারিং নিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ার কিছু নেই, তবে প্রযুক্তির প্রয়োগে আরও স্বচ্ছতা আসা প্রয়োজন।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন