বিশ্বকাপের শেষ ১৬’র ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে ম্যাচের পর মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে আলোচনায় রেফারিং বিতর্ক। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে বলে দাবি মিশরীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের (ইএফএ)। ম্যাচ পরিচালনায় ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ এনে ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছে তারা। তবে মিশরের এমন গুরুতর অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন টিকে থাকে।’ এমন গুরুতর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের জবাবে কিংবদন্তি রেফারি কলিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের অফিসিয়ালদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলেরই অংশ। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের স্থান আমাদের খেলায় নেই। রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ৬৬ বছর বয়সী এই সাবেক রেফারি আরও বলেন, ‘ফিফার রেফারিদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরও নেই। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে মাঠের সিদ্ধান্ত নেন।’ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের মোস্তফা জিকোর একটি গোল ভিএআর (ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি) বাতিল করে দেয়, যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ মিশর। ভিএআর-এর সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সঠিক উল্লেখ করে কলিনা যুক্তি দেন, ‘আক্রমণভাগের বিল্ড-আপের সময় মিশরের মারওয়ান আতিয়া পরিষ্কারভাবে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রেফারি মাঠে এটি না দেখলেও ভিএআর নিয়ম অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করেছে। কারণ, ফাউল ফাউলই।’ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের করা গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
কিন্তু মিশরের দাবি, সেই গোলের ঠিক আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে মোহামেদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। সেই পেনাল্টি নাকচ হওয়া প্রসঙ্গে কলিনা যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘সালাহ এবং হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার ট্যাকলটি রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই সাধারণ ফুটবলীয় কনট্যাক্ট হিসেবে দেখেছেন। ডিফেন্ডার আগে বলে স্পর্শ করলে সেটি ফাউল নয়। কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে, তবে সার্বিকভাবে আমরা এই টুর্নামেন্টের রেফারিং নিয়ে সন্তুষ্ট।’
