মৌলভীবাজারে নদী ও হাওরের পানি বাড়ছে, বন্যার আশঙ্কা

মৌলভীবাজারে নদী ও হাওরের পানি বাড়ছে, বন্যার আশঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

জেলা জুড়ে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বৃষ্টি থামলেও উজানের পানিতে বাড়ছে নদী ও হাওরের পানি। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জেলার মনু ও ধলাই নদীর পানি। ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দু’টি স্থানে ভেঙে প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বসতবাড়ি, ক্ষেতকৃষি ও রাস্তাঘাট।

বন্যার ঝুঁকিতে জেলার নদী ও হাওর পাড়ের বাসিন্দারা। মনু নদী চাঁদনীঘাট ব্রিজ এলাকা বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তীরবর্তী মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান রোড এলাকাসহ শহরের বাসিন্দারা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙন ও বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন। হঠাৎ করে গেল দুইদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ক্রমেই বাড়ছে জেলার নদী ও হাওরে পানি। জেলার মনু, কুশিয়ারা, ফানাই, ধলাই ও জুড়ী নদী ছাড়াও হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওর পানিতে টইটুম্বর। মনু (৭২ সেন্টিমিটার) ও ধলাই (২১ সেন্টিমিটার) নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় জানায়, চলমান বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে পানি বাড়ছেই। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় জেলার নদী তীরের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গেল দুইদিন থেকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলা সবক’টি নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে ও কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছে। মনু ও ধলাই নদীর তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চলের বাসা-বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে।

এ ছাড়া স্থানীয় ছোট-বড় গাঙ ও খালের পানি উপচে ক্ষেতকৃষি ও বাড়ি-ঘরে উঠছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি থামলেও আবারো মুষলধারে বৃষ্টি হওয়া শঙ্কায় বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন জেলার নদী ও হাওর তীরের বাসিন্দারা। গেল দু’দিনের পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডিং অনুযায়ী জেলার সবক’টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার শহর সংলগ্ন চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুলাউড়ার মনু ব্রিজ পয়েন্টে মনু নদীর পানি ৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জুড়ী নদী বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুরের কুশিয়ারা পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায় বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাহিরগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দু’টি পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে এবং ত্রাণসামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান মানবজমিনকে জানান, গেল দুইদিনে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, আবহাওয়ার এই অবস্থা আরও ২-৩ দিন থাকতেও পারে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ মানবজমিনকে জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উপচে পড়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধের ৪-৫টি স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধলাই নদীর ভাঙনের স্থান মেরামত নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি রয়েছে ভারতের। তবে সুযোগ পেলে ওই স্থান মেরামতসহ জেলার নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধগুলো ভাঙন রোধে তারা সতর্ক নজরদারি রাখছেন। তারা মাঠে রয়েছেন, সব প্রস্তুতিও রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন