সরকারি আদেশের পরও নড়িয়া থানায় বহাল ওসি, জনমনে প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

প্রশাসনিক কারণে বদলির আদেশ জারির তিন মাস পেরিয়ে গেলেও শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া এখনো একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওসির ভূমিকা ও বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। এদিকে বদলির আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান।

সম্প্রতি নড়িয়ার কলেজছাত্রী তানজিলার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা ওসি বাহার মিয়ার ছবি সংবলিত পোস্টারে জুতাপেটা করে তার অপসারণের দাবি জানান। স্বজনদের অভিযোগ, তানজিলার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ ও তদন্তে পুলিশের গাফিলতির কারণে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যদিও পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয় এবং ওই মামলায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে প্রশাসনিক কারণে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহার মিয়াকে শরীয়তপুর থেকে কিশোরগঞ্জ জেলায় বদলি করা হয়। আদেশে বদলি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা থাকলেও তিন মাস পরও তিনি নড়িয়া থানায় বহাল রয়েছেন। এ ঘটনায় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মতিউর রহমান সাগর আইজিপি, সংশ্লিষ্ট ডিআইজি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বদলির আদেশ বাস্তবায়ন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, বদলির আদেশ হওয়ার পরও কেন ওসি এখনো কর্মস্থলে বহাল আছেন, সেটি এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদি বদলির আদেশ স্থগিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই আদেশ প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে জেলা পুলিশের অবস্থানও জনগণের জানা উচিত। এছাড়া পুলিশের হয়রানির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় অভিযোগ করেন, ওসি বাহার মিয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আটক বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ওসি বাহার মিয়া বলেন, বদলির আদেশ স্থগিত হওয়ায় তিনি এখনো নড়িয়া থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ওসি বদলি বা কর্মস্থলে বহাল থাকার বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত। জেলা পুলিশের এ বিষয়ে কোনো এখতিয়ার নেই। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন বাহার মিয়া। ২০১৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে ইন্সপেক্টর হন। চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নড়িয়া থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন তিনি। প্রশাসনিক বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া, ওসির দাবি অনুযায়ী বদলি স্থগিতের আদেশ প্রকাশ না হওয়া এবং এ নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ-সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন নড়িয়াজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন