স্যার কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগের পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বৃটিশ লেবার পার্টি। এ পর্যন্ত দলটির নেতৃত্বের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শুধু অ্যান্ডি বার্নহাম। ফলে চলতি মাসের শেষের দিকেই তিনি বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জিতে সংসদে ফিরে আসা সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহাম খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে পারেন।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এমপিরা নেতৃত্বের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে পারবেন। প্রার্থী হতে হলে লেবারের মোট এমপির অন্তত ২০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে দলটির ৪০৩ জন এমপি থাকায় একজন প্রার্থীর অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন লাগবে। এছাড়া দল সংশ্লিষ্ট ৩১টি সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত তিনটির মনোনয়ন অথবা কনস্টিটুয়েন্সি লেবার পার্টির (সিএলপি) অন্তত ৫ শতাংশের সমর্থনও অর্জন করতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়নের মনোনয়নের ক্ষেত্রে লেবারের অনুমোদিত সদস্যসংখ্যার অন্তত ৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি ইউনিয়নের সমর্থন থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জিএমবি, ইউনাইট ও ইউনিসন।
১৩ জুলাই নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা সংসদীয় বিতর্কসভায় (হাস্টিংস) অংশ নেবেন এবং লেবার এমপিদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। যদি বার্নহামই একমাত্র প্রার্থী থাকেন, তাহলে কার্যত একাই সেই অধিবেশনে অংশ নেবেন। ১৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় ট্রেড ইউনিয়ন ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মনোনয়ন শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই একই সময়ে শেষ হবে। প্রয়োজনে ২০ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সিএলপি পর্যায়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলবে।
বার্নহাম একমাত্র প্রার্থী হলে কী হবে?
এটিই এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো আর কোনো শক্তিশালী প্রার্থী সামনে আসেননি। অধিকাংশ লেবার এমপিও ধরে নিচ্ছেন, বার্নহামই দলের পরবর্তী নেতা এবং বৃটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন। স্যার কিয়ের স্টারমারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু স্টারমারের পদত্যাগের পর তিনি বার্নহামকে সমর্থন জানান এবং নিজে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন না বলে ইঙ্গিত দেন। যদি বার্নহাম ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেয়ে যান, তাহলে গাণিতিকভাবে আর কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে অন্য কেউ প্রার্থী না হলে ১৭ জুলাই বার্নহাম লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হতে পারেন। তবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হবেন না।
প্রথমে স্টারমারকে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে বাকিংহাম প্যালেসে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর রাজা বার্নহামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। নেতা নির্বাচনের ঘোষণা যেহেতু শুক্রবার হওয়ার কথা, তাই আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী কর্মদিবস ২০ জুলাই, সোমবার হওয়ার কথা।
অন্য কোনো প্রার্থী এলে কী হবে?
যদি আরেকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন, তাহলে ১৬ জুলাই থেকে পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন বিরতির সময় নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। সে ক্ষেত্রে স্টারমার ১লা সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় অধিবেশন শুরু হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ৬ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দলীয় সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থকদের ভোটে নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৯ আগস্ট।
আগাম সাধারণ নির্বাচন হবে?
প্রধানমন্ত্রী হলে বার্নহাম ইতিমধ্যেই আগাম নির্বাচন না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহে এক অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, আমি ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করব। সেপ্টেম্বরের মধ্যে গত এক দশকে বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের সংখ্যা দাঁড়াবে সাতে। এর আগে তেরেসা মে (২০১৬), বরিস জনসন (২০১৯), লিজ ট্রাস (২০২২) এবং ঋষি সুনাক (২০২২) সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতার মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী হন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরোধীরা তাদের গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রীর আগাম নির্বাচন দেয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বৃটেনের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৪ঠা জুলাই ২০২৪। ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়।
আইন অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন আগস্ট ২০২৯-এর মধ্যে হতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে তার আগেও যেকোনো সময় নির্বাচন আহ্বান করতে পারেন। আগাম নির্বাচন ডাকার সিদ্ধান্ত সাধারণত জনমত জরিপে দলের অবস্থান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন সরকারের জন্য ভোটারদের কাছ থেকে নতুন ম্যান্ডেট নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে।
তাই বার্নহাম এখনই নির্বাচন না করার কথা বললেও, ২০২৯ সালের আগেই বৃটেনে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
