সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থীর স্বপ্নভঙ্গ

সাবেক প্রেমিকার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থীর স্বপ্নভঙ্গ

ফন্ট সাইজ:

সাবেক প্রেমিকার এক অভিযোগেই স্বপ্নভঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের শক্তিশালী এক প্রার্থীর। তিনি হলেন গ্রাহাম প্ল্যাটনার। তার প্রেমিকা অভিযোগ করেছেন, ২০২১ সালে মদ্যপ অবস্থায় অনুমতি ছাড়াই তার বাড়িতে ঢুকে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন প্ল্যাটনার। তবে প্ল্যাটনার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ নিয়ে অনলাইন বিবিসি রিপোর্টে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী গ্রাহাম প্ল্যাটনারের দ্রুত উত্থান যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, তেমনি তার আকস্মিক পতনও দলটির জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। ঝিনুক চাষি ও সাবেক মেরিন সদস্য প্ল্যাটনার জনপ্রিয় গভর্নরকেও পরাজিত করে ১৫ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের তৃণমূল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। বুধবার রাতে আকস্মিক তিনি নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ১১ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। 

এর মাত্র দুই দিন আগে পলিটিকো এক প্রতিবেদনে প্ল্যাটনারের এক সাবেক প্রেমিকার অভিযোগ প্রকাশ করে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালে মদ্যপ অবস্থায় প্ল্যাটনার অনুমতি ছাড়াই তার বাড়িতে ঢুকে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভিডিও বার্তায় প্ল্যাটনার বলেন, আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলোর একটির বিরুদ্ধে লড়ে জয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে জিততে দেবে না। 

প্ল্যাটনার ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে পাঁচ মেয়াদের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করা প্রার্থী। কলিন্সই কংগ্রেসে একমাত্র রিপাবলিকান, যিনি এমন একটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা জয় পেয়েছিল। নভেম্বরে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্রেটদের অন্তত চারটি রিপাবলিকান আসন দখল করতে হবে এবং নিজেদের সব আসন ধরে রাখতে হবে। সে কারণে মেইনের আসনটিকে দলটির জন্য অবশ্যই জিততে হবে- এমন আসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
কিন্তু প্ল্যাটনারের সরে দাঁড়ানো সেই সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের পুরনো দ্বন্দ্বও আবার সামনে এসেছে, যা শুধু এবারের নির্বাচন নয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। 

যৌন নিপীড়নের অভিযোগই প্ল্যাটনারকে ঘিরে প্রথম বিতর্ক না। এর আগে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আপত্তিকর পোস্ট, নাৎসি প্রতীকের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সমালোচিত একটি বুকের ট্যাটু, ২০২৩ সালে বিয়ের পরও নারীদের কাছে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠানো এবং সাবেক প্রেমিকাদের পক্ষ থেকে হুমকিমূলক ও বিষাক্ত আচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এসব বিতর্ক সত্ত্বেও জুনের প্রাইমারি নির্বাচনে মেইনের ৭২ শতাংশ ডেমোক্রেট ভোটার তাকে সমর্থন করেন। কিন্তু সর্বশেষ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। 

ডেমোক্রেট পার্টির অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নেতারা, এমনকি প্ল্যাটনারের ঘনিষ্ঠ প্রগতিশীল সমর্থক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেনও তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেন। জাতীয় ডেমোক্রেটিক পার্টিও জানায়, তারা আর তার নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থায়ন করবে না। এরপরই স্পষ্ট হয়ে যায়, প্ল্যাটনারের সরে দাঁড়ানো শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে নিজের ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের কারণে তিনি প্রচারণা বন্ধ করছেন না। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা আমাদের কাছ থেকে যে সাংগঠনিক কাঠামো কেড়ে নিচ্ছে, সে কারণেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। প্ল্যাটনার আরও জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কাগজ তখনই জমা দেবেন, যখন নিশ্চিত হবেন যে তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকে উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত করা হবে।

মেইনের আইন অনুযায়ী, ডেমোক্রেটদের ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। অঙ্গরাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টি জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠেয় দলীয় কনভেনশনে শত শত প্রতিনিধি ভোট দিয়ে নতুন প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এর আগে দলটি বলেছিল, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মতামতও নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন