যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শুধু বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে শেষ হয়নি; বরং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরেন পলিসি’তে প্রকাশিত ববি ঘোষের মতামতধর্মী লেখায় এ কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখার পর এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। পরে ফিফা অপ্রত্যাশিতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। জানা যায়, ট্রাম্প ফিফা সভাপতি গিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প পরে প্রকাশ্যেই এই সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব দাবি করেন। লেখকের মতে, বিশ্বজুড়ে অনেকের চোখে এটি ফুটবলের নিয়ম ও ফিফার স্বাধীনতার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দলকে যেভাবে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছিল, তা দেশটির ইতিবাচক ও অতিথিপরায়ণ চেহারা তুলে ধরেছিল। উদাহরণ হিসেবে আলজেরিয়ার দলকে কানসাসে স্থানীয় মানুষের মধ্যরাতে বৃষ্টির মধ্যে অভ্যর্থনা, নিউ জার্সিতে হাইতির দলের প্রতি সমর্থন এবং ওয়াশিংটনে মিশরের অনুশীলন দেখতে হাজারো মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, এসব উদ্যোগ হোয়াইট হাউসের নয়, সাধারণ আমেরিকানদের উদ্যোগ ছিল।
তবে বালোগানকে ঘিরে বিতর্ক সেই ইতিবাচক পরিবেশকে ম্লান করে দেয় বলে লেখকের দাবি। তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলো সাধারণত এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ পায়। কিন্তু তার মতে, ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি- বিশেষ করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং বালোগান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ, সেই সুযোগকে নষ্ট করেছে। নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, বেলজিয়ামের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হার প্রমাণ করে যে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মাঠের ফল বদলাতে পারেনি। কিন্তু লেখকের মতে, আসল ক্ষতি ম্যাচের ফল নয়; বরং এমন ধারণা তৈরি হওয়া যে রাজনৈতিক ফোনকলের মাধ্যমে ফুটবলের নিয়ম পরিবর্তন করা সম্ভব। শেষে লেখক সতর্ক করে বলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই ঘটনা ম্যাচের ফল নির্ধারণ না করলেও ভবিষ্যতে এমন নজির ফুটবলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এতে খেলার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
