লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আবেগে ভেসেছেন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। মেসি যখন জয়ের আনন্দে অঝোরে কাঁদছেন, তখন রোকুজ্জো কয়েকটি শব্দে এক বার্তা দিলেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন- ‘ভামোস আর্জেন্টিনা! @ লিওমেসি ইয়া নো কুদান পালাবাস’। অর্থাৎ, ‘চলো আর্জেন্টিনা! @ লিওমেসি, আর কোনো শব্দই অবশিষ্ট নেই।’ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১২ মিনিট বাকি থাকতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তখন মনে হচ্ছিল, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত। সেই ধ্বংসপ্রায় অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ে আর্জেন্টিনা। ১৩ মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল করে মোহাম্মদ সালাহদের মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় তারা। আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তাদের তিন ছেলে থিয়াগো (১৩), মাতেও (১০) ও সিরো (৮) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টাতে গ্যালারি থেকে ম্যাচটি উপভোগ করেন। ২০১৭ সালে লিওনেল মেসিকে বিয়ে করা আন্তোনেলা ম্যাচ শেষে ইনস্টাগ্রামে স্বামীকে উদ্দেশ করে আবেগঘন ওই বার্তা দেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজের ও তিন ছেলের কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন। সবার গায়ে ছিল মেসির ১০ নম্বর জার্সিসহ আর্জেন্টিনার হোম জার্সি। এছাড়া ভিআইপি বক্সে তোলা নিজের কয়েকটি ছবিও পোস্ট করেন, যেখানে তার জার্সির পেছনে মেসির নাম এবং একটি হালকা নীল রঙের হার্মেস কেলি ব্যাগ দেখা যায়।
২০১৭ সাল পর্যন্ত আন্তোনেলাকে মূলত কিংবদন্তি ফুটবলার মেসির সহধর্মিণী হিসেবেই বেশি পরিচিত করা হতো। তবে পরে তিনি নিজস্ব পরিচয়ও গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি একজন সমাজসেবী, বহুমূল্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার, শিশুদের পোশাক ব্র্যান্ডের মালিক এবং মডেল। তিনি অ্যাডিডাস ও স্টেলা ম্যাককার্টনিসহ বিভিন্ন ফিটনেস ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। একসময় তিনি দন্তচিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরে সেই পরিকল্পনা ছেড়ে মেসির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। বার্সেলোনা, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই এবং বর্তমানে ইন্টার মিয়ামিতে মেসির ফুটবল যাত্রার পুরোটা সময়ই তিনি সঙ্গী।
