প্রথম আলো
‘বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেও ঘানা-উগান্ডার পেছনে দেশ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।
অবশ্য বিদেশি বিনিয়োগ সব সময়ই কম পায় বাংলাদেশ। এমনকি তা আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, ঘানা, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মতো ছোট অর্থনীতির দেশের থেকেও কম।
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থাৎ অর্থনীতির আকার হচ্ছে ৫০১ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন সমান ১০০ কোটি) ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় উগান্ডার অর্থনীতির আকার সাত ভাগের এক ভাগ। দেশটি গত বছর ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে।
একইভাবে ঘানা ও কঙ্গো অর্থনীতির আকারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থেকে বেশি বিনিয়োগ পাচ্ছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (আঙ্কটাড) বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬-এ এমন চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ১ হাজার ৬২৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার এই ছোট তিন দেশ জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদে বড় বড় প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। তার বিপরীতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ টানতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ভালো বিনিয়োগ পাচ্ছে।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতির সক্ষমতার তুলনায় বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ অনেক কম। এক বছরে এফডিআই প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও এর বেশির ভাগই পুনর্বিনিয়োগ। অনেক বহুজাতিক কোম্পানি নিজ দেশে অর্থ ফেরত পাঠাতে পারে না, কিংবা স্থানীয় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা মুনাফার অর্থ পুনর্বিনিয়োগ করে। কিন্তু তাতে সার্বিকভাবে নতুন খাতে বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান, নতুন দক্ষতা বাড়ে না।
মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত হবে। এ জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ ঠিক করা, অনুকূল নীতিমালা করা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সমস্যা কমিয়ে আনা, করকাঠামোর সমস্যা সমাধান করা জরুরি। এ ছাড়া ভূরাজনীতির কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।’
আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফডিআই পাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচ দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, হংকং, চীন ও ব্রাজিল। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ২৭৭ বিলিয়ন, সিঙ্গাপুর ১৫১, হংকং ১১৬, চীন ১০৫ এবং ব্রাজিল ৭৭ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে।
প্রবৃদ্ধি বেশি, বিনিয়োগ কম
২০১৫ সালে বাংলাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই আসে। তবে পরে তা কমে যায়। ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। কোনো বছরই এফডিআই ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যায়নি।
বিগত ছয় বছরের মধ্যে ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই আসে। ওই বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ কমা স্বাভাবিক। ২০২৫ সালে বিনিয়োগ সাম্প্রতিক বছর পর্যায়ে গেছে। যেহেতু আগের বছর অস্বাভাবিক কম ছিল, সে কারণে গত বছর প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, তাদের মধ্যে ভারত গত বছর সবচেয়ে বেশি ৩৯ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ২১, ভিয়েতনাম ২০ বিলিয়ন, কম্বোডিয়া ৫ এবং পাকিস্তান ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে।
শুধু এফডিআই নয়, নতুন বিনিয়োগ বা গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের সংখ্যাও কমছে বাংলাদেশের। ২০২৪ সালে নতুন প্রকল্পের বিনিয়োগ ছিল ১৭৩ কোটি ডলার। গত বছর সেটি প্রায় ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৩৩ কোটি ডলারে।
নতুন বিনিয়োগ আসা কমলেও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। যদিও পরিমাণ এখনো খুবই কম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ বিদেশে গেছে। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে আড়াই কোটি ডলার।
বিনিয়োগ বাড়ে না কেন
বাংলাদেশের চেয়ে এফডিআই প্রাপ্তিতে উগান্ডা, ঘানা ও ডি আর কঙ্গোর সাফল্যের পেছনে দেশগুলোর নীতি সংস্কার ভূমিকা রেখেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসার খরচ হ্রাস ও অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙা করতে বেশ কিছু খাতে কর বাতিল করেন। উগান্ডা তাদের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে ওয়ান স্টপ সেন্টারে (এক দরজায় সব সেবা) রূপান্তর করেছে। পাশাপাশি শিল্প পার্কগুলোতে বিশেষ সুবিধা দেয়। অন্যদিকে কঙ্গো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ খাতের উদারীকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে বড় বিনিয়োগ টানছে।
এই তিন দেশ ছাড়াও আফ্রিকার মোজাম্বিকে গত বছর ৫ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন, নাইজেরিয়ায় ৪, ইথিওপিয়ায় ৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন এবং কেনিয়ায় ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরের মাসেই সিঙ্গাপুরে বহুজাতিক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) রিয়েল অ্যাসেট ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী পরিচালক পদে কর্মরত আশিক চৌধুরীকে বিডার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে তাঁকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানও করা হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসে এক অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, উদ্যোক্তাদের সমস্যা বুঝতে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ২৩৫ জন প্রধান নির্বাহী ও কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বিনিয়োগকারীরা বলেছেন যে তাঁরা নীতির ধারাবাহিকতা চান। সম্পদের প্রাপ্যতা নিয়েও সঠিক তথ্য জানতে চান। দুর্নীতির বিষয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সে সময় তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে ব্যবসায়ের সব বাধা দূর করা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন করতে আগ্রহী।
ব্যবসার পরিবেশ উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ খুব একটা হয়নি। গত অক্টোবরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যবসা পরিবেশ সূচক বা ক্লাইমেট ইনডেক্সে (বিবিএক্স) প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশে বলার মতো কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো এক বছরে আইনকানুনের তথ্য প্রাপ্তি, অবকাঠামোসুবিধা, শ্রম নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য সহজীকরণ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও মান—এই ছয় সূচকে পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম বেড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের সমাধান হয়নি। ঋণের সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ থেকে কমেনি। মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ঘরে। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে শুল্ক ও করে ছাড় দিয়েছেন। ব্যবসা সহজ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। আবার বন্ধ কারখানা চালু করতে বড় অঙ্কের প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এসব উদ্যোগ কতটা সফল হবে, সেটি সময়ই বলবে।
ইশতেহারে বিনিয়োগে জোর
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কোন জায়গায় বিনিয়োগ করলে বেশি মুনাফা করা যাবে, সেটিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেন বিনিয়োগকারীরা। তার বাইরে সহজে ব্যবসা করার বিষয়গুলো, যেমন নিবন্ধন, গ্যাস-বিদ্যুৎ প্রাপ্তি, অবকাঠামো, বন্দরের সক্ষমতা, দুর্নীতি আছে কি নেই ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য দেয় তারা।
রূপালী হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগে আমরা কোথায় পিছিয়ে আছি, সেগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সরকারের একমুখী চিন্তা থাকতে হবে। রাজস্বের চেয়ে কর্মসংস্থানে বেশি জোর দিতে হবে। তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পার্বত্য অঞ্চল’। খবরে বলা হয়, ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্বত্যাঞ্চল। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে পাহাড় ও ভূমিধসের শঙ্কা। বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন ফ্লাইট নামতে পারেনি। চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। সিটি করপোরেশন তাদের আওতাধীন ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও সড়ক-অলিগলি ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা যেতে পারেনি স্কুলে।
রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে নারীর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে তীব্র পানি প্রবাহের কারণে ৭ ঘণ্টা আটকা থাকে ট্রেন। কক্সবাজারে দুদিনে পাহাড়ধস ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে মাতামহুরী নদীর পানি। রাঙামাটিতে পাহাড়ধস হয়েছে। গাছ উপড়ে মারা গেছেন একজন। খাগড়াছড়িতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। বান্দরবানের থানচিতে আটকে পড়া শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে এক শিশু। সড়কে পানি জমেছে বরিশাল নগরীতে। নদীভাঙন তীব্র হয়েছে ভোলায়। উত্তাল সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে হয়েছে বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক জেলেকে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের ৬ বিভাগে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এছাড়া ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার ভূমিধস হতে পারে বলেও শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
মঙ্গলবার ঢাকায়ও ভারি বর্ষণ হয়েছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অতিবৃষ্টির কারণে যানচলাচলে বিঘ্ন হয় এবং প্রায় সব রাস্তায় জ্যাম সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদনদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ১২ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত ও নদনদীর পরিস্থিতিবিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদনদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটিতে।
কালের কণ্ঠ
‘অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পেনাল্টি মিস করেছিলেন, দুটি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল দলও। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুরুদুরু বুকে কাঁপতে শুরু করেছিল ভক্তরা।
কারণ চোখ রাঙাচ্ছিল দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও ব্রাজিলের মতোই বিদায়ের শঙ্কা। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে অদম্য লিওনেল মেসিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি মিসরের রক্ষণভাগ, তিনি কোটি ভক্তের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আবারও ত্রাতার ভূমিকায়। পরের ১৩ মিনিটে (যোগ করা সময়সহ) তাঁর পায়েই রচিত হয়েছে আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রোমাঞ্চকর জয়ের গল্প। ম্যাচের ২১ মিনিটে স্পট কিকে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলেও পরে একটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন এবং আরেকটি নিজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের গোলে ৩-২ গোলে মিসরকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় গতকাল মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাল না ছাড়া লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা পরের ১৩ মিনিটে তিন গোল করে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নেয় মেসি ম্যাজিকে। ফর্মের তুঙ্গে আছেন মেসি।
চলতি বিশ্বকাপে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার সব ম্যাচেই; কিন্তু সেই মেসি করেন দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি মিস। এতেই এক আসরে দুইবার স্পট কিকে গোল করতে না পারা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে যান তিনি। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৫ মিনিটের সময় মারওয়ান আতিয়ার ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে মিসরকে এগিয়ে নেন ইব্রাহিম ইয়াসের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের গৌরবময় বিশ্বকাপের সাফল্য আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নেমেই সাফল্য পায় মিসর।
বিশ্বকাপে এই প্রথম দুই দলের সাক্ষাৎ এটি। অবশ্য সমতায় ফেরার মোক্ষম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই; কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা মেসি। এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে আটবার বিশ্বকাপে পেনাল্টি নিয়ে সর্বাধিক চারবার মিস করলেন তিনি। টানা তিন বিশ্বকাপে স্পট কিকে গোল করতে না পারার দুর্ভাগ্যও একমাত্র মেসির। ২০১৮ সালের আসরে আইসল্যান্ড এবং ২০২২ সালের আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আরো কয়েকটি সুযোগ প্রতিহত করেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। তাঁর দক্ষতার কারণেই সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসিলেস্তেরা। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনা দাপট নিয়ে খেলেও পাচ্ছিল না গোলের দেখা। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে মিসর আরেকটি গোল করে, যদিও ভিএআর বিশ্লেষণে তা বাতিল হয় ফাউলের কারণে। তবে ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিসর (২-০)। কিন্তু আক্রমণের ধার কমেনি আর্জেন্টিনার। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড কমিয়ে দেয় ব্যবধান (২-১)। আরো উজ্জীবিত আলবিসিলেস্তেরা চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং ৮৩ মিনিটেই সমতায় ফেরে তারা। এবার গনসালো মনতিয়েলের পাসে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি (২-২)। এটি বিশ্বকাপে তাঁর টানা ৯ ম্যাচে গোল।
৯৬ বছর আগের ইতিহাস ফিরিয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হিসেবে তিনিও এক বিশ্বকাপে করলেন আট গোল। ১৯৩০ সালে গিলের্মো স্তাবিল করেছিলেন আটটি গোল।
হতাশ মিসরীয়রা আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ে। যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিট) লাউতারো মার্তিনেসের ডান প্রান্ত থেকে করা লম্বা ক্রসে হেড করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এনসো ফের্নান্দেস (৩-২)। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জিতল আলবিসিলেস্তেরা। স্নায়ুচাপের সেই জয় এলো মেসির ক্যারিসমায়, শেষ আটে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর তাই ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন মেসিও, সেটি হারের মুখ থেকে অবাক প্রত্যাবর্তনে যুদ্ধজয়ের সাফল্যের কান্না।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘হামের পরবর্তী জটিলতায় চোখের সমস্যায় রোগীরা’। খবরে বলা হয়, হাম-পরবর্তী গুরুতর জটিলতার একটি হচ্ছে চোখের সমস্যা। যথাসময়ে চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। হামের ভাইরাস সরাসরি চোখের টিস্যুকে আক্রান্ত করতে পারে, আবার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে হামের শারীরিক উপসর্গ কমে যাওয়ার পর চোখে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কর্নিয়ায় প্রদাহ এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্নিয়ায় ক্ষত বা আলসার।
গত সাড়ে তিন মাসে প্রায় ৩৫০ জন রোগী হাম-পরবর্তী চোখের জটিলতায় চিকিৎসা নিয়েছেন। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দুইশর বেশি শিশু একই ধরনের জটিলতায় চিকিৎসা নিয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের এক চিকিৎসকও এ ধরনের পঞ্চাশের বেশি রোগী দেখেছেন। কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মাসুদুল হাসানের ব্যক্তিগত চেম্বারে এমন প্রায় ১০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তৃপ্তি বিশ্বাসের (ছদ্মনাম) বয়স ৩০। পেশায় চিকিৎসক। থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। গত মাসে তিনি হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কয়েক দিন জ্বর, শরীরে র্যাশ ও দুর্বলতা ছিল। পরে শরীর কিছুটা ভালো হলেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে চোখ লাল হয়ে যায়। পরে দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে। চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে। আলো সহ্য করতে পারতেন না। তিনি সমকালকে বলেন, ‘চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জানতে পারি, হামের কারণেই চোখে সমস্যার হয়েছে।’
ডা. মোহাম্মদ মাসুদুল হাসান বলেন, বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ কিছুটা কমার পর চোখে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রথম দিকে চোখ লাল হওয়া বা কনজাংটিভাইটিস দেখা গেলেও মূল জটিলতা শুরু হয় কর্নিয়া আক্রান্তের মাধ্যমে। রোগীরা প্রথমে ঝাপসা দেখা শুরু করেন, চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে এবং আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হয়। অনেকের ফটোফোবিয়া হয়।
মাসুদুল হাসান বলেন, পুষ্টিহীনতা বা ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় কর্নিয়ায় আলসার বা ঘা তৈরি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সেই ক্ষত থেকে কর্নিয়ায় ছিদ্র পর্যন্ত হতে পারে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই হামের পর চোখের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। রোগী আইসোলেশনে থাকাকালেও চোখের সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. বজলুল বারী ভূঁইয়া বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে কনজাংটিভাইটিস ও কর্নিয়া-সম্পর্কিত জটিলতা নিয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুর পুষ্টি ঠিক থাকলে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে হামজনিত চোখের সংক্রমণ ধীরে ধীরে সেরে যায়। তবে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, কানে সংক্রমণ হতে পারে, নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া এনসেফালাইটিসের কারণে মস্তিষ্কে প্রদাহ হলে স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।
ডব্লিউএইচও সুপারিশ করেছে, হামে আক্রান্ত সব শিশুকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভিটামিন ‘এ’-এর দুটি ডোজ দেওয়া উচিত। ভিটামিন ‘এ’ চোখের ক্ষতি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ও অপুষ্টিপ্রবণ এলাকায় এর গুরুত্ব বেশি।
ইত্তেফাক
‘বিশ্বকাপ ট্রফির ছোঁয়া পাননি অনেকে কিংবদন্তিই’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মেসি-নেইমারদের পেছনে সবচেয়ে বড় ব্যানার আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। এর বাইরে যারা রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ফুটবলাররা; তারা নিজেদের পথ নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন। বাংলাদেশে অনেক ছাদের ওপরে পর্তুগালের পতাকা উড়তে দেখা যায়। তারা কি পর্তুগালের সমর্থক নাকি রোনালদোর জন্য পর্তুগালের পতাকা ওড়ান। রোনালদোর খেলা থাকলে বাংলাদেশের মানুষও রাত জাগেন, সৌদি আরবে খেলেছেন রোনালদো। সেই থেকে সৌদি লিগের গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছিল। রোনালদো তার জীবনে কি না পেয়েছেন। পাঁচ বার ব্যালন ডিঅর জিতেছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু রোনালদোর। ছয় বিশ্বকাপে ১১ গোল করেছেন। ছয় বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই তিনি গোল করেছেন। ২০১৬ ইউরো জিতেছেন। ইউসেবিও, লুইস ফিগোরা যা পারেননি তা করে দিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু বিশ্বকাপ জয় করা হয়নি এই ফুটবলারের।
পরশু রাতে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নকআউটে শেষ মাচ খেলে ফেললেন রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে ১-০-তে হেরেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে এই কিংবন্তি কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছেন। সবাইকে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়েছেন ৪১ বছর বয়সের রোনালদো। রোনালদো বলছেন, বিশ্বকাপ জিততে না পারায় তার কোনো আফসোস নেই। সেটা তার মনের কথা নাকি মুখের কথা রোনালদো ভালো বলতে পারবেন। তবে রোনালদো ভক্তদের আফসোস রোনালদোর মতো ফুটবলার বিশ্বকাপ ছোঁয়ার অধিকার রাখেন। বিশ্ব ফুটবলে অনেকেই রয়েছেন যারা ফুটবল পৃথিবী জয় করেছেন। সবার মনে আসন পেয়েছেন। সবই পেয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফিটা ধরার ভাগ্য হয়নি তাদের। রোনালদোর মতো অনেকেই মাঠ থেকে কেঁদে বেরিয়েছেন।
রোনালদোর আগে ফুটবল দুনিয়ার মাতিয়েছেন তার দেশের ইউসেবিও। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ খেলেছেন ইংল্যান্ডের মাটিতে। সেরা সাফল্য পেয়েছিল পর্তুগাল। তৃতীয় হয়ে দেশে ফিরেছিল ইউসেবিওর পর্তুগাল। চার গোল করেছিলেন ইউসেবিও। উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায় পর্তুগাল। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়। আজও তারা দ্বিতীয় ট্রফি পায়নি বলে আফসোস। ফাইনালে না উঠলেও ৬৬ বিশ্বকাপে ইউসেবিও তার অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে কিংবদন্তির খেতাব পান পর্তুগিজ তারকা ইউসেবিও।
ইতালির ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি ছিলেন ৮০-র দশকের ফুটবল দুনিয়া জয় করে ফেলেছেন। ফুটবল হূদয়ে পাওলো মালদিনি তখন বাংলাদেশের ফুটবলেও তুমুল জনপ্রিয়। বাংলাদেশ যখন প্রযুক্তির ছোঁয়াও পায়নি। ৮২ সালে রঙিন টিভির যুগে পা দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯০ থেকে ২০০২, চারটা বিশ্বকাপ খেলেছেন মালদিনি। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে হেরেছে ইতালি, সেমিফাইনালে হেরেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে ২০১৭ মিনিট খেলে যে রেকর্ড গড়ে ছিলেন সেটি ভেঙে দেন মেসি, ২০২২ বিশ্বকাপে। মালদিনি বিশ্বসেরা অন্যতম ডিফেন্ডার হয়ে তার ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন। কিন্তু আফসোস, বিশ্বকাপ ট্রফিটা ছোঁয়ার ভাগ্য হয়নি।
হাঙ্গেরিয়ান ফুটবলার ফেরেন্স পুসকাস। ৫০ দশকে তার নাম ছিল সবার মুখে মুখে। ম্যাজিক দেখাতেন। হাঙ্গেরি ছিল তখন সবচেয়ে শক্তিশালী ফুটবল দল। ৫৪ বিশ্বকাপে ফেবারিটের তকমা লাগিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। গ্রুপ পর্বে ৯-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে ৮-৩ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারায়। ফাইনালে গিয়ে পশ্চিম জার্মানির কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় হাঙ্গেরি।
কিংবদন্তি হয়েও বিশ্বকাপ না জেতার তালিকা আরো লম্বা, ব্রাজিলের জিকো, সক্রেটিস, ইতালির রাবার্তো ব্যাজিও, রাশিয়ার গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিন, জার্মানির মিশেল প্লাতিনি, নর্দান আয়ারল্যান্ডের জর্জবেস্ট, ব্রাজিলের পাওলো রবার্তো ফালকাও। সেই তালিকায় ঢুকেছে নেইমার এবং রোনালদোর নাম। দুই দিন আগে নেইমার বলে গিয়েছেন তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। এ কথা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না বলা কঠিন। কারণ তার সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর ফিরবেন না। তার কথা মনে রাখবে ফুটবল হৃদয়।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘কৌশলগত টানাপড়েনে দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের আধিপত্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ও বিপজ্জনক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর’ (বিসিআইএম-ইসির একটি বর্ধিত অংশ)। চীনের বহুল আলোচিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) আওতাধীন এই করিডোরটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। নয়াদিল্লির এই কৌশলগত বিরোধিতার প্রধান কারণ মূলত ভূরাজনৈতিক আধিপত্য এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর) নিরাপত্তা উদ্বেগ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সমীকরণে যুক্ত হয়েছে ভারতের নতুন আগ্রাসী কৌশল। করিডোর ঠেকাতে এবং বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একই সাথে ভারতের উগ্র-জাতীয়তাবাদী নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের একাংশ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডোর ও কৌশলগত ভূখণ্ড বিশেষ করে ‘রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ’ সামরিকভাবে দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকি ও উসকানি দেয়া হচ্ছে। এই নতুন আগ্রাসনের মুখে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন এক ঐতিহাসিক সঙ্কটের মুখোমুখি।
অপর দিকে চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন তৎপরতা ও সাইবার নজরদারি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম একটি ভূরাজনৈতিক ‘হটস্পটে’ পরিণত হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা বলয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ভারতের কৌশলগত বিরোধিতা ও নতুন আগ্রাসী সমীকরণ
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিসিআইএম-ইসি কেবল একটি বাণিজ্যিক রুট নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একচ্ছত্র প্রভাবকে খর্ব করার একটি চীনা কৌশল বলে মনে করে নয়াদিল্লি। ভারত আশঙ্কা করে, এই করিডোরের মাধ্যমে চীন ভারতকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার যে নীতি (স্ট্রিং অব পার্লস) নিয়েছে, তা পূর্ণতা পাবে। মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চীনের পরোক্ষ উপস্থিতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী সংকীর্ণ অংশটি ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। বলা হচ্ছে- চীন যদি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ওপর এই করিডোরের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তবে যুদ্ধকালীন বা ভূরাজনৈতিক সঙ্কটের সময় ভারতের এই জীবনরেখা ঝুঁকিতে পড়বে।
এই করিডোর ও ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে ভারত তার ‘পুশইন’ নীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সীমান্ত এলাকায় জোরপূর্বক পুশইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, ভারতের চরমপন্থী থিংক-ট্যাংক ও সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অজুহাতে বাংলাদেশের ‘রংপুর বিভাগ’ এবং বঙ্গোপসাগরে ভারতের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে ও চীনা করিডোর রুখে দিতে ‘চট্টগ্রাম বিভাগ’ দখলের মতো আগ্রাসী ও উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং একটি চরম ভূরাজনৈতিক উসকানি।
ভারতীয় মিডিয়ার বক্তব্য অনুসারে এই অর্থনৈতিক করিডোর চালু হলে চীন সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের নিয়মিত টহল বৃদ্ধি পাবে, যা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বলয়কে দুর্বল করবে। ঢাকার চীনা দূতাবাস সূত্র এ ধরনের বিষয়কে কল্পনা প্রসূত বলে মনে করে।
বণিক বার্তা
‘দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মেসির পায়ে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত আটলান্টার আকাশে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল ফারাওদের জয়গাথা। দুই গোলে পিছিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
পেনাল্টি মিস করে মেসি তখন ট্র্যাজিক হিরো, আর মিসরের গোলকিপার যেন গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ওদিকে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে একের পর এক বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাকে লণ্ডভণ্ড স্কালোনির রক্ষণভাগ। গ্যালারি জুড়ে তখন একটাই ফিসফাস—বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অঘটন কি তবে ঘটেই গেল? ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দুই পরাশক্তিকে ছাড়াই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল? আফ্রিকান ফুটবলের নতুন এক অমর মহাকাব্য লিখতে চলেছে মিসর?
ঠিক তখনই ধ্বংসস্তূপের ছাই ভেদ করে ডানা মেলল আলবিসেলেস্তে ফিনিক্স। কোনো একক জাদুকরের কাঁধে ভর করে নয়, আর্জেন্টিনার এ পুনরুত্থান তিন যোদ্ধার সম্মিলিত মরণকামড়ে। ম্যাচের সমস্ত স্থবিরতা ভেঙে প্রথম আগুন জ্বালালেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মেসির ক্রস থেকে তার বুলেট হেডারে যেন প্রাণ ফিরে পেল স্তব্ধ গ্যালারি। এরপর মঞ্চে সেই চেনা জাদুকর; পেনাল্টি মিসের দায় চুকিয়ে প্রথম জালের ঠিকানা খুঁজে নিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের ভাগ্যলিপি যখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে, তখন মিসরের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকলেন এনজো ফার্নান্দেজ।
মাত্র ১৪ মিনিটের টর্নেডো! তিন-তিনটি গোল। অবিশ্বাস, বিস্ময় আর আবেগের সব সীমানা ভেঙে ৩-২ ব্যবধানের এক অতিমানবিক জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটল আর্জেন্টিনা। রেফারির শেষ বাঁশি যখন বাজল, আটলান্টার মাঠে তখন একদিকে বাঁধভাঙা উল্লাস, অন্যদিকে বুকভাঙা হাহাকার। তবে পরাজিত মিসরও মাঠ ছাড়ল মাথা উঁচু করেই। তারা হেরেছে বটে, কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ইতিহাসের সবচেয়ে অগ্নিপরীক্ষায় ফেলে। তবে এ মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন ঘিরে রয়েছে বিতর্কের ছাপ। জয়সূচক গোলের ঠিক আগে সালাহকে আলভারেজের চ্যালেঞ্জে ফেলে দেয়ার ঘটনায় পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে মিসর, যা নাকচ করে দেন রেফারি। আর এর আগেই জিকোর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়াও ম্যাচজুড়ে ক্ষোভের খোরাক হয়ে থাকে।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতে। বল দখল, ছোট ছোট পাস, দুই প্রান্ত বদলে আক্রমণ—সবই ছিল স্কালোনির দলের পরিকল্পনায়। কিন্তু ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম কর্নার থেকেই চমকে দেয় মিসর। মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ডেলিভারিতে ইয়াসের ইব্রাহিম ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে হারিয়ে জোরালো হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে। একটি সুযোগ, একটি নিখুঁত আঘাত আর তাতেই ১-০ এগিয়ে যায় ফারাওরা। তবে বিপদে পড়েও দ্রুত ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ১৯ মিনিটে বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফাউল করায় পেনাল্টি দেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। পুরো স্টেডিয়াম তখন দাঁড়িয়ে। কিন্তু মেসির নিচু শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির চতুর্থ পেনাল্টি মিস, আর চলতি আসরে দ্বিতীয়। এক মুহূর্তে যেন পুরো ম্যাচের গতি পাল্টে যায়।
এরপর শুরু হয় শোবেইরের একক প্রদর্শনী। ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান, আলভারেজের ভলি ঠেকান, মেসির ফ্রি-কিক পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। আর্জেন্টিনা আক্রমণ করছে, মিসর অপেক্ষা করছে পাল্টা আক্রমণের। ৫৮ মিনিটে জিকো আবারো বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকটা আগে আতিয়ার ফাউলের কারণে ভিএআরে গোল বাতিল হয়। আর্জেন্টিনা যেন দ্বিতীয় জীবন পায়। কিন্তু সেটাও বেশিক্ষণ টেকেনি।
৬৭ মিনিটে আবারো কর্নার থেকে বিপদ। এবার মেসির কর্নার ক্লিয়ার করেই বজ্রগতির পাল্টা আক্রমণ শুরু করে মিসর। সালাহ মাঝমাঠে বল ধরে অপেক্ষমাণ হাসানকে দেন। ডান দিক দিয়ে ছুটে গিয়ে হাসান নিচু ক্রস ফেরান। বক্সে ঢুকে আসা জিকো এবার আর কোনো ভুল করেননি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ব্যবধান ২-০।
আটলান্টার গ্যালারিতে তখন নিস্তব্ধতা। ক্যামেরা বারবার চলে যাচ্ছিল মেসির মুখে। তিনি দুই হাত কোমরে রেখে দূরে তাকিয়ে। যেন বুঝে গেছেন বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখানেই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু এরপর মাস্টারমাইন্ড স্কালোনির দাবার ছক। মাঠে আসেন লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো গনসালেস, মন্তিয়েল। আর্জেন্টিনা চারজন ফরওয়ার্ড নিয়ে প্রায় সর্বাত্মক আক্রমণে চলে যায়। পেছনে থেকে যান শুধু দুই সেন্টারব্যাক আর পারেদেস। শুরু হয় অন্য এক ম্যাচ।
৭৮ মিনিটে মেসি ডান দিক থেকে এমন একটি ক্রস তুললেন, যা শুধু দেখা যায়, আটকানো যায় না। সামনে ছুটে আসা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দুর্দান্ত হেডে গোল করেন। গোল করেই বল কুড়িয়ে নিয়ে মাঝমাঠে ছুটে যান তিনি। উদযাপনের সময় নেই। সমতা ফেরাতে তখনো একটি গোলের ঘাটতি।
রোমেরোর গোল বদলে দেয় পুরো ম্যাচের মানসিক চিত্র। এতক্ষণ যাদের আত্মবিশ্বাস পাহাড়সম ছিল, সেই মিসরীয়রা হঠাৎ করেই রক্ষণে গুটিয়ে যায়। আর আর্জেন্টিনা যেন বিশ্বাস করতে শুরু করে—অসম্ভবও সম্ভব। ৮৩ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘নতুন বেতনকাঠামো: সরকারি চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট হার সমান থাকছে না’। খবরে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোয় সব গ্রেডে প্রায় সমান হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পদ্ধতি থেকে সরে আসছে সরকার। এবার বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গ্রেডের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্তরভেদে চাকরিজীবীদের বাস্তব চাহিদা। এ কারণে নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলার ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান নিয়মে সরকারি কর্মচারীদের বেতনকাঠামোর সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। তবে নতুন বেতনকাঠামোর খসড়ায় শুধু ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি মূল বেতনের ৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে এ হার ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হবে আলাদাভাবে।
দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির নিয়মে এ পরিবর্তনের উদ্যোগের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সরকারের এ বিষয়ক একটি বিস্তৃত জরিপ। এতে অংশ নেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান বেতন বৃদ্ধির পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন। ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে আবার ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন আরও বেশি বাড়ানোর পক্ষে।
পৃথক আরেকটি অনলাইন জরিপেও বর্তমান বেতনকাঠামো নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। এতে অংশ নেন ৪ হাজার ১৪৩ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ১৮ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান বেতন প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট। প্রায় ৯৯ শতাংশই বলেছেন, বিদ্যমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন। ৮৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বেতন বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। ১০ শতাংশ বেতন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। অনেকেই ১৮তম থেকে ২০তম গ্রেড পুনর্গঠন এবং সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান আরও কমানোর সুপারিশ করেন।
গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য ওই অতিরিক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।
দেশ রূপান্তর
‘অনিয়মের দুর্গন্ধ চামড়া শিল্পনগরীর সারা গায়ে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চামড়া শিল্পনগরী দেশের চামড়া খাতের প্রধান কেন্দ্র। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের পর কথা ছিল চামড়াশিল্প খাত পৌঁছাবে আন্তর্জাতিক মানে। একই সঙ্গে রোধ করা যাবে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ। তবে প্রায় দেড় যুগ পর এসে দেখা যাচ্ছে, এসব লক্ষ্যের খুব সামান্যই পূরণ হয়েছে। উল্টো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রমাণ উঠে এসেছে সরকার নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষাতেই। দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্য পূরণের পরিবর্তে এই চামড়া শিল্পনগরী নিজেই দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ২০০১-২০০৬ মেয়াদে ওই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়ন কাজ ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তবে ১৮ বছর ৬ মাস শেষে ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাভারে শিল্পনগরীর কাজ বাস্তবায়ন করে। শেষ পর্যন্ত ব্যয় পৌঁছায় প্রায় হাজার কোটি টাকায়।
প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। শুরু থেকে মোট ১৭ কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। আর এ সময়ে মোট ৪৭টি খাতে মোট ৯৯৫ কোটি ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫ টাকার অডিট আপত্তি এসেছে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ক্ষতিকর বর্জ্য পরিশোধন করতে ৪৭৭ কোটি ৫২ লাখ ১৭ হাজার টাকায় নির্মাণ করা সিইটিপি (সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে খোদ সরকারি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সমীক্ষায় প্রকল্পটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যও এসেছে। আইএমইডি নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘প্রকাশ গণকেন্দ্র (পিজিকে) ’ এই সমীক্ষা পরিচালনা করে।
পিজিকের প্রতিবেদনে অবৈধ আড়ত, মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা, কাঁচাচামড়া বাজারে অস্বচ্ছতা, প্রশাসনিক ভবনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু না হওয়া, রেন্টাল নীতিমালার অভাব, অডিট আপত্তি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কিছু অবকাঠামোর অপূর্ণাঙ্গ ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাম্পিং ইয়ার্ড ও ক্রোম ব্লকের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ ব্যবস্থাপনা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এটি ভবিষ্যতে বড় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।
দেখা গেছে, একাধিক সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাগজপত্রে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯৩৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকায়। সরকারি নিরীক্ষায় অবশ্য এর চেয়েও কয়েকশ কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব ব্যয় এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
পিজিকে বলছে, প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪৭টি আপত্তি নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয়ে সরকারি নিরীক্ষা কর্র্তৃপক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিসিক চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা রয়েছে। বেশিরভাগ আপত্তি এখনো ‘ব্রডশিট জবাব প্রেরণ’ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকায় কার্যকর নিষ্পত্তির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। আপত্তিগুলোতে মোট অর্থের পরিমাণ ৯৯৫ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার ৩৫ টাকা।
পিজিকের মূল্যায়নে বলা হয়, প্রকল্পটি শুধু বাস্তবায়নকালে নয়, বাস্তবায়নপরবর্তী পর্যায়েও আর্থিক, প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিক দুর্বলতায় ভুগছে। একই ধরনের অনিয়ম বারবার হওয়া এবং বেশিরভাগ আপত্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার বিষয়টি প্রকল্পে অব্যবস্থাপনার দিক নির্দেশ করছে।
আইএমইডির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সিইটিপি ক্ষতিকর বর্জ্য পরিশোধনে সক্ষম না হওয়ায় প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হয়নি। এর জন্য ব্যয় হয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। প্রকল্প সমীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান মনে করছে, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও এটি প্রত্যাশিত সক্ষমতা অর্জন করেনি। ফলে পরিবেশ সুরক্ষা লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার পাশাপাশি ব্যয় হওয়া অর্থের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা’। খবরে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধন করতে চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারদলীয় জোট। এ নিয়ে সংসদে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোটের নামের তালিকার। তবে শুরু থেকে এ নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিরোধীদলীয় জোট। তাদের দাবি সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। এরপরই আটকে যায় সরকারদলীয় জোটের সংশোধন প্রস্তাব। চলতি অধিবেশনের শুরুতে ওই কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি। চলতি সংসদ অধিবেশনের আর মাত্র কয়েকটি দিবস রয়েছে। এর মধ্যেই কমিটি গঠন করতে চায় সরকারদলীয় জোট।
এ নিয়ে পর্দার আড়ালে চলছে দুই জোটের সমঝোতার চেষ্টা। কোন জোট কতটুকু ছাড় দেবে তা নিয়ে চলছে দরকষাকষি। সংশোধন ও সংস্কারের বিকল্প শব্দ খোঁজা হচ্ছে। কারণ এ দুটি শব্দের মধ্যে রয়েছে দুই জোটের রাজনৈতিক এজেন্ডা। মাঝে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় রয়েছে। দুই জোটের শীর্ষ কয়েক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদ অধিবেশনের মাঝে সংসদ নেতার সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে হয়তো আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে দুই জোটের নেতাদের মধ্যেও নানা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদি সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা যায় তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকারদলীয় জোটকে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনের জন্য তারা কোনো নাম দেবে না। যদি সংস্কারের জন্য হয় তাহলে যেকোনো সময় নাম দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া আমরা কোনো ধরনের সংশোধনীতে নেই। আমাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে কিছু প্রস্তাব দেওয়ানেওয়া হয়েছে। সংসদ ও সংসদের বাইরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন না সংস্কার ইস্যুতে পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চলছে প্রশ্নে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিশেষ কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে যেকোনো সময় হতে পারে। সরকার ও বিরোধী দল তো সমঝোতার মধ্যেই চলে। এটা হলে তো দেশ এগোবে। বাজেট পাস হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা একসঙ্গে সংসদের ফ্লোরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা হলে ভালো। সে চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে যদি কোনো খোলা জায়গায় আলোচনা হয় সেটাও তো ভালো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার ইস্যুতে পর্দার আড়ালে দুই জোটের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে উভয় পক্ষই পর্দার আড়ালে এ আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। দুই জোটের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক এবং খসড়া প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। তাদের মতে, এ সমঝোতা সফল হলে দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে। তবে পর্দার আড়ালের এ চুক্তি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নির্ভর করছে দলগুলোর সর্বোচ্চ মহলের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে তৈরি করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথে নামার হুমকি ছিল। জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে আরেকটি অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জুলাই জাতীয় সনদ ইস্যুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পরপর দুবার ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতসহ জোটভুক্ত দলগুলো বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। একই ইস্যুতে কয়েক দফা সংসদে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। পক্ষে-বিপক্ষে, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে একাধিক দিন সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং দেশের ২৫টি রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি ছিল সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে এবং বাকি ৩৭টি আইন, অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য।
সহযোগীদের খবর
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেও ঘানা-উগান্ডার পেছনে দেশ
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
৮ জুলাই (বুধবার), ২০২৬, ৯ঃ২৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
