টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার বুধবার (৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এইচএসসি, আলিম ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্থগিত হওয়া জেলার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলা প্রশাসকের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা।
তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলা ছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অন্যান্য জেলার পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, কমে গেছে গণপরিবহন।
খাগড়াছড়িতে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। মহালছড়ির কয়েকটি এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে জেলার ১০ উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও সদর উপজেলার হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। টেকনাফে অন্তত ৮০০ পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে। এছাড়া লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৭০০টি আশ্রয়ঘর প্লাবিত হয়েছে।
বান্দরবানে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুম এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার পর্যন্ত জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে আরও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, প্রথমে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি, পরে কক্সবাজার এবং সবশেষে পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলার বুধবারের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
