টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড

টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড

ফন্ট সাইজ:

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়েও ভাঙেনি ডেডলক। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। ১৯৫৪ সালের পর বিশ্বমঞ্চে এটিই সুইসদের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তি। শেষ আটের এই মহোৎসবে তারা মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কলম্বিয়াই সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায়। ৯৯ মিনিটে হুয়ান কিনতেরোর চমৎকার কর্নার থেকে ডিফেন্ডার লুকুমির দুর্দান্ত হেড সুইজারল্যান্ডের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ১০১ মিনিটে কাম্পাসের দূরপাল্লার বুলেট গতির শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন সুইস কিপার কোবেল।

এর কিছুক্ষণ পর সুইজারল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমেই সুযোগ তৈরি করেন আমদুনি। তবে কলম্বিয়ার গোলকিপার কামিলো ভার্গাস তা রুখে দেন।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১১৬ মিনিটে সুইস ডিফেন্সের ভুলে বক্সের ভেতর বল পেয়েও গোলবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন কাম্পাস। ফলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।

টাইব্রেকারে প্রথম শটেই কলম্বিয়াকে লিড এনে দেন কিনতেরো। সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা নিজের শটে গোল করে সমতা ফেরান (১-১)। এরপর কলম্বিয়ার দাভিনসন সানচেজের নেয়া শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে প্রথম ধাক্কা খায় লাতিন আমেরিকার দেশটি। সুইজারল্যান্ডকে ২-১ এ এগিয়ে নেন আমদুনি।

এরপর কলম্বিয়ার কাম্পাস গোল করলেও, সুইস ডিফেন্ডার মানুয়েল আকানজি শট মিস করে বল বারের উপর দিয়ে মারলে আবার সমতা ফেরে (২-২)। তবে পরের শটেই কলম্বিয়ার কুচো হার্নান্দেজের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দেন সুইস প্রাচীর গ্রেগর কোবেল। এরপর ইত্তেন গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।

কলম্বিয়ার হয়ে শেষ শটে লুইস দিয়াজ গোল করে আশা বাঁচিয়ে রাখলেও (৩-৩), সুইজারল্যান্ডের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ শটে কোনো ভুল করেননি রুবেন ভার্গাস। কলম্বিয়ান কিপারকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো সুইজারল্যান্ড দল। মাঠের এক প্রান্তে তখন সুইসদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দ, আর অন্য প্রান্তে লুইস দিয়াজদের বিদায়ের অশ্রু।


৯০ মিনিটেও গোলশূন্য সমতা

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও, শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙতে পারেনি কেউ। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে গোলশূন্য ড্র নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো শেষ ১৬র শেষ ম্যাচটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ড কিছুটা চেপে ধরে কলম্বিয়াকে। ৫৪ মিনিটে সুইস মিডফিল্ডার রিডারের একটি ফ্রি-কিক জালের বাইরের পাশে লাগলে অনেকেই গোলের বিভ্রান্তিতে পড়েন।

৬০ মিনিটে লুইস দিয়াজকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন সুইস ডিফেন্ডার জাকারিয়া। এর পরেই সুয়ারেজ কলম্বিয়ার পক্ষে সহজ সুযোগ পেলেও শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।

৭৩ মিনিটে কলম্বিয়ার বক্সে বল পাঞ্চ করতে গিয়ে সুইস স্ট্রাইকার এমবোলোকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন কলম্বিয়ান কিপার ভার্গাস। তবে বড় কোনো ইনজুরি হয়নি।

ম্যাচের শেষ দিকে সুইজারল্যান্ডের দুটি পেনাল্টির জোরালো দাবি ভিএআরে নাকচ হয়ে যায়। শেষ বাঁশির আগ মুহূর্তে এনদোয়ের কোণাকুণি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গোল ছাড়াই শেষ হয় নির্ধারিত সময়। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে এখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে লড়বে দুই দল।


গোলশূন্য বিরতিতে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া

শেষ ১৬র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে গোলশূন্য বিরতিতে গেছে দুদল। তবে মাঠের লড়াই ছিল বেশ জমজমাট। বলের নিয়ন্ত্রণে সুইজারল্যান্ড (৫১%) সামান্য এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ধার বেশি ছিল কলম্বিয়ার।

লুইস দিয়াজ ও হামেস রদ্রিগেসকে কেন্দ্র করে কলম্বিয়া বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে। ম্যাচের ২২ মিনিটে পুয়ের্তার জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন সুইস কিপার কোবেল। পরের মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক সুইজারল্যান্ডকে গুছিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

৩১ মিনিটে রিডারের নেয়া নিচু শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কলম্বিয়ার গোলকিপার ভার্গাস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কলম্বিয়া লুইস দিয়াজকে ব্যবহার করে বাঁ প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালালেও, সুইস ডিফেন্ডার ফ্রয়লার ও আকানজি দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।

বেশ কিছু ফাউল ও টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন