আকস্মিক পদত্যাগ করে ‘নতুন বাজি’ ধরলেন নাইজেল ফারাজ

আকস্মিক পদত্যাগ করে ‘নতুন বাজি’ ধরলেন নাইজেল ফারাজ

ফন্ট সাইজ:

বৃটেনের ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে’র নেতা নাইজেল ফারাজ নাটকীয়ভাবে ক্ল্যাকটন আসনের এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আসনটিতে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন এবং ভোটারদের রায়ের ওপরই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
দলীয় সদর দপ্তর থেকে দেয়া এক সরাসরি সম্প্রচারে ফারাজ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, গণমাধ্যমের সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তাতে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, আমি চাইলে রাজনীতি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু কেন আমার ভবিষ্যৎ গণমাধ্যম নির্ধারণ করবে? আমি বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল করিনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্ল্যাকটনের এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করছি, যাতে একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমার কর্মকাণ্ডের বিচার করবেন ক্ল্যাকটনের জনগণ।

এদিন ফারাজ আরও বলেন, আমি এই উপনির্বাচনে প্রার্থী হবো এবং জয়লাভের জন্য লড়ব। যদি আমি জিতি, তাহলে জনগণ জিতবে। আর যদি আমি হারি, তাহলে জিতবে সেই পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যা বৃটেনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন কখনো আনতে পারবে না।

অনুদান নিয়ে তদন্তের মুখে ফারাজ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফারাজের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে পাওয়া আর্থিক অনুদান যথাযথভাবে ঘোষণা না করার অভিযোগ ওঠে।
বৃটেনের পার্লামেন্টের মানদণ্ডবিষয়ক কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযোগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ধনকুবের ক্রিস্টোফার হারবোর্নের দেয়া প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি উপহারের বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তারের জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত জর্জ কটরেল নির্বাচনের আগে তার নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যয়ের অর্থ জুগিয়েছিলেন- এমন অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য ইলেক্টোরাল কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি।

২০২৪ সালে জয়
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ফারাজ ক্ল্যাকটন আসনে প্রায় ৮ হাজার ৪০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি মোট ভোটের ৪৬ শতাংশ পেয়ে আসনটি দখল করেন, যেখানে কনজারভেটিভ পার্টি পরাজিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন জরিপে রিফর্ম ইউকে এগিয়ে রয়েছে এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনেও দলটিকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আবারও উপনির্বাচনের ঝুঁকি
যদিও ফারাজ উপনির্বাচনে জয়ী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তবুও তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে যদি সংসদের আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তাকে ১০ কার্যদিবসের বেশি সময়ের জন্য সংসদ থেকে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে আবারও তার আসনে ‘রিকল পিটিশন’ হতে পারে। ওই পিটিশনে অন্তত ১০ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিলে আরেকটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিরোধীদের কড়া সমালোচনা
বৃটেনের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফারাজের পদত্যাগকে “মরিয়া রাজনৈতিক নাটক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফারাজ কেন এটি করছেন, তা স্পষ্ট। তিনি নানা অনিয়ম ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়।”
এ ছাড়া বিরোধী নেতা কেমি বেদেনচ এই পদত্যাগকে “রাগের মাথায় দেয়া পদত্যাগ” বলে মন্তব্য করেছেন।

নতুন অভিযোগ
সম্প্রতি সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফারাজ নির্বাচনের আগে জর্জ কটরেলের কাছ থেকে পাওয়া কর্মী, নিরাপত্তা ও একটি সম্পত্তি ব্যবহারের সুবিধার কথা সংসদে ঘোষণা করেননি।
যদিও রিফর্ম ইউকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জর্জ কটরেল দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মকর্তা নন; তিনি কেবল একজন স্বেচ্ছাসেবক।

দলের দাবি, তার ব্যবহৃত বিজনেস কার্ডও কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নির্দেশ করার জন্য তৈরি করা হয়নি।
১৯৯৯ সালে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন নাইজেল ফারাজ এবং ২০২০ সালে বৃটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর বহুবার চেষ্টা করার পর অবশেষে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ল্যাকটন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন