লাল কার্ড বিতর্কের জবাব দিয়ে কোয়ার্টারে লুকাকুরা

লাল কার্ড বিতর্কের জবাব দিয়ে কোয়ার্টারে লুকাকুরা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। লাল কার্ড দেখা একজন খেলোয়াড় পরের ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন। আর তার পেছনে জড়িয়ে আছে একটি দেশের প্রেসিডেন্টের নাম। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড ইস্যুতে রীতিমতো কাঠগড়ায় ফিফা। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পরই ফিফা প্রেসিডেন্ট বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহার করে নেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বেলজিয়ামের।

তবে মাঠের লড়াইয়ে তারা ঠিকই জবাব দিলো। শেষ ষোলোর মঞ্চে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো শেষ আটে পা রেখেছে বেলজিয়াম। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। অন্যদিকে নকআউটে সাতবার খেলা যুক্তরাষ্ট্র ষষ্ঠবারের মতো শেষ ষোলোতে এসে থামলো।
সিয়াটল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন বালোগান। সে কারণে তার দিকেই সবার চোখ ছিল। বিতর্কিত প্রেক্ষাপটে তার মাঠে নামাটাই ছিল এক প্রকার রেকর্ড। সেই বালোগান বেলজিয়ামের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারেননি। বেলজিয়ামের রক্ষণের কাছে রীতিমতো ধুঁকেছেন। পুরো ম্যাচে শট নেন মাত্র তিনটি। যার একটিও বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। ৯০ মিনিটে বল ছুঁয়েছেন কেবল ১৯বার। যুক্তরাষ্ট্রের এ ফরোয়ার্ডের ঝিমিয়ে পড়ার দিনে আলো ছড়ায় বেলজিয়াম।

নবম মিনিটে লিড নেয় তারা। নিকোলাস রাসকিনের পাস থেকে সহজ টোকায় গোল করেন চার্লস ডি কেটেলারা। ৩১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক টিলম্যান। বলটি বেলজিয়ামের হান্স ফানাকানের মাথায় লেগে জালে জড়ালেও গোলটি লেখা হয় টিলম্যানের নামেই। কিন্তু এই সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই, ৩৩ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের ক্রস থেকে দলকে আবার এগিয়ে দেন কেটেলারা। প্রথমার্ধ শেষ হয় বেলজিয়ামের ২-১ গোলের লিড নিয়ে। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে ভুল করে বসেন আমেরিকার গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস। বক্সের বাইরে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। তার পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফানাকানের কাছে পাস দেন কেটেলারা। বল রিসিভ করে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে সরাসরি শট নেন ফানাকান।

পোস্টের নিচ দিয়ে বল ঢুকে যায় জালে, স্কোর হয় ৩-১। এর মাধ্যমে চার্ল ডি কেটেলার (২ গোল, ১ অ্যাসিস্ট) প্রথম বেলজিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে তিন গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড গড়েন (১৯৬৬ সাল থেকে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর)। নির্ধারিত সময় শেষের পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ক্রিস রিচার্ডসের ভুল পাস থেকে বল পান ফানাকান। তিনি বল বাড়িয়ে দেন রোমেলু লুকাকুর দিকে। কোনাকুনি শটে গোল করে স্কোরলাইন ৪-১ করেন লুকাকু। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় বেলজিয়ামের বড় জয়। আর শেষ গোলটি করে রোমেলু লুকাকু গড়েছেন নতুন রেকর্ড। বিশ্বকাপে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে চারটি ভিন্ন ম্যাচে বদলি নেমে গোল করেছেন। এর মধ্যে চলতি আসরেই তিনি তিন ম্যাচে বদলি হিসেবে গোল পেলেন।

ম্যাচশেষে বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া বলেন, ‘দেশের মানুষ যারা গভীর রাতে জেগে আমাদের সমর্থন জুগিয়েছেন, তাদের সবাইকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ। বেলজিয়ামের আজকের পারফরম্যান্সে আপনাদের গর্বিত ও খুশি হওয়া উচিত। আমরা আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি যে, বেলজিয়াম ফুটবলের এক দারুণ পরাশক্তি।’ যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ‘ম্যাচটি শুরু থেকেই আমাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। আমরা বেলজিয়ামকে অভিনন্দন জানাই, কারণ তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। দিনটি আমাদের ছিল না। তবে এই হার থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে আমরা যেভাবে খেলেছিলাম, আজ কেন সেই কৌশলে এগোতে পারিনি- সেটি আমাদের গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন