‘নামে ভারী ফ্রান্স মরক্কোও কম নয়’

‘নামে ভারী ফ্রান্স মরক্কোও কম নয়’

ফন্ট সাইজ:

কাতারের স্মৃতিকে পেছনে ফেলে বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে নতুন লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফ্রান্স-মরক্কো। আগামীকাল মাঠে গড়াবে দুই দলের হাইভোল্টেজ প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। চলতি আসরে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স এবং শক্তিধর মরক্কোর এই ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এক তীব্র কৌশলী লড়াই। বিপ্লব বলেন, ‘আমার মনে হয়, মরক্কো গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যেখানে শেষ করেছিল, এই বিশ্বকাপে সেখান থেকেই নতুন করে শুরু করেছে। সেবার তারা ফ্রান্সের সঙ্গে যে ভুল করে হেরেছিল, তা এবার করতে চাইবে না।

তারা ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়েছে। এরপর নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো একের পর এক কঠিন বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে এসেছে। দল হিসেবে এখন তারা অনেক বেশি পরিপক্ক ও সুপিরিয়র। গোলপোস্টে ইয়াসিন বুনুর মতো বিশ্বস্ত সেনানি আছে। ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ ফ্রান্স নামে ভারী দল হলেও মরক্কো কম নয়।’ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার পর এই বিশ্বকাপে আবারও এক মঞ্চে দুই দল। এবার অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘গত ম্যাচে প্যারাগুয়ের অতি-রক্ষণাত্মক ও নেতিবাচক ফুটবলের কারণে ফ্রান্স স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি। তবে মরক্কো কিন্তু ইতিবাচক ও হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে। তারা বল দখলে রেখে দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজায়।

এই পর্বে আর ভুল করার সুযোগ নেই। তাহলে ব্রাজিল ও পর্তুগালের মতো খেসারত দিতে হবে।’ ফ্রান্সের শক্তির জায়গা হলো তাদের অ্যাটাকিং লাইন। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তাদের মিডফিল্ডাররা দারুণ ছন্দে রয়েছে। মরক্কোকেও অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। তাদের দলগত ভারসাম্য চমৎকার। বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘ফ্রান্সের যদি বলি যে তাদের সবচেয়ে বড় স্ট্রং জায়গা হলো ধরেন অ্যাটাকিং সাইডটা। উসমান দেম্বেলে, এমবাপ্পে, অসাধারণ একটা দল। তবে মরক্কোর বিশেষ করে ব্রাহিম দিয়াজ, রহীম, সাইবেরি, বোয়াদ্দি, হাকিমি, কান্নুস এরা অনেক ভালো খেলছে। তারা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। মরক্কোর রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের যুগলবন্দি ফ্রান্সের জন্য মাথাব্যথা হতে পারে। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর পারফরম্যান্স এই ম্যাচে নির্ধারণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে দলগত পারফরম্যান্সে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফ্রান্সের অভিজ্ঞতার বিপরীতে মরক্কোর তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও ট্যাকটিকাল শৃঙ্খলার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসি কাদের মুখে ফুটবে সেটাই দেখার বিষয়।’ ফ্রান্সের ৪ জয়ের রেকর্ড বনাম মরক্কোর ১ জয়ের ইতিহাস পেছনে ফেলে এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছে দুই দল। বিপ্লব ভট্টাচার্য মনে করেন এমবাপ্পেকে নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ফ্রান্স কেবল একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। দল হিসেবে তারা অনেক বেশি শক্তিশালী। বিপ্লব বলেন, ‘আমার কাছে ফ্রান্সকে এমবাপ্পে নির্ভর দল মনে হয় না। ফ্রান্সের যেই কোয়ালিটি প্লেয়ার আছে এমবাপ্পে না থাকলেও ম্যাচ বের করার মতো টিম। মরক্কো প্রমাণ করছে তারাও। দু’দলই পজিটিভ ফুটবল খেলে, সুন্দর ফুটবল খেলে। মরক্কোর আইয়ুব বোয়াদ্দি একদম সার্জিও বুসকেটসের মতো অসাধারণ একজন মিডফিল্ডার। দলটার যে ডেপথ এবং প্রত্যেকটা পজিশনে ভালো প্লেয়ার আছে। এছাড়া মরক্কোর খেলোয়াড়রা বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখায় বেশ পটু। ফুটবলের সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা। যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত ম্যাচ গড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন