বিশ্বকাপের নতুন বল ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’

বিশ্বকাপের নতুন বল ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের জন্য নতুন অফিসিয়াল বল উন্মোচন করেছে অ্যাডিডাস ও ফিফা। নাম দেয়া হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’। সাধারণত বিশ্বকাপের শেষ পর্বের বলে শুধু রঙে পরিবর্তন আনা হয়, নকশা একই থাকে। কিন্তু এবার সেই প্রথা ভেঙেছে অ্যাডিডাস। তারা শুধু রঙ বদলে দেয়নি, বরং টুর্নামেন্টের শেষ চার ম্যাচের গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলতে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনই তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে উন্মোচিত মূল ‘ট্রিওন্ডা’ বলের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই সংস্করণ। মূল বলে ছিল সবুজ, লাল ও নীলের সমন্বয়। যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো, এই তিন আয়োজক দেশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ফাইনাল সংস্করণে এসেছে বড় পরিবর্তন। সাদা, কালো ও সোনালি রঙের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

যা সরাসরি বিশ্বকাপ ট্রফির রঙ থেকে অনুপ্রাণিত। কালো প্রেক্ষাপটের ওপর সোনালি নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ট্রফির প্রতীকী রূপ। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে গোলাপি ও লালের ছোঁয়া, যা মাঠে খেলোয়াড়দের বুটের রঙের সঙ্গে দৃশ্যগত সংযোগ তৈরি করে। বলটিতে বিশেষভাবে জায়গা পেয়েছে বিশ্বকাপের ষোলোটি আয়োজক শহর। সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ও ফাইনালের আয়োজক ডালাস, আটলান্টা, মায়ামি এবং নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির নাম বলের মূল নকশায় প্রধানভাবে স্থান পেয়েছে। বোস্টন, গুয়াদালাহারা, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেক্সিকো সিটি, মন্তেরে, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া, সিয়াটল, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার-ত্রিভুজাকৃতি গ্রাফিক নকশার মধ্যে বুনে দেয়া হয়েছে।

দেখতে নতুন হলেও মাঠের কার্যকারিতায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এই বলে। আগের মতোই চার-প্যানেল নির্মাণ, একই সারফেস গঠন এবং একই অ্যারোডাইনামিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা হয়েছে, যাতে খেলার মান অপরিবর্তিত থাকে। বলটিতে রয়েছে অ্যাডিডাসের সর্বাধুনিক কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বলের গতিবিধির রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করা যাবে, যা রেফারিদের দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং ভিএআর পর্যালোচনাতেও কাজে লাগবে। বল উন্মোচনের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে জালে জড়ানোর প্রতিটি মুহূর্তেই আনন্দ বয়ে এনেছে ট্রিওন্ডা।

এই বল কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও উদ্দীপনাকে ফুটিয়ে তোলে।’ লিওনেল মেসি, জুড বেলিংহাম ও লামিনে ইয়ামালদের মতো তারকারা ইতিমধ্যে এই বল নিয়ে প্রচারণামূলক ছবিতে অংশ নিয়েছেন। আসন্ন সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ১৯শে জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে এই বলই ব্যবহৃত হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও বাজারে এসেছে এই বল। পেশাদার সংস্করণের পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যের লীগ সংস্করণ ও মিনি বলও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন