ইরানিদের মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান সিআইএর

ইরানিদের মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান সিআইএর

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানি নাগরিকদের সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মধ্যেই এ আহ্বান জানানো হলো। এ খবর দিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

ফারসি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সিআইএ জানায়, হ্যালো। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি আপনার কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছে এবং আপনাকে সাহায্য করতে চায়। সংস্থাটি একটি দুই মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে নিরাপদভাবে কীভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভিডিওতে ইরানিদের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) বা টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয় এবং অফিসের কম্পিউটার বা কর্মস্থলের ফোন ব্যবহার না করতে সতর্ক করা হয়। সিআইএ সম্ভাব্য তথ্যদাতা বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংস্থার আগ্রহের তথ্য বা দক্ষতা শেয়ার করার আহ্বান জানায়।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বড় আকারের নৌ ও আকাশ সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে, যার ফলে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় দফা বৈঠকে তেহরান একটি খসড়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খোলা রেখেছেন।

ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো হামলাকে তারা আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করবে এবং কঠোর জবাব দেবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার বলেন, একটি পারমাণবিক চুক্তি হাতের নাগালে রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, যদিও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তারা বজায় রাখবে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাঁচ দফা পারমাণবিক আলোচনা করলেও ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর সেগুলো ভেঙে যায় এবং ১২ দিনের সংঘাতে রূপ নেয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় অংশ নেয়। জবাবে ইরান ইসরাইলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও আঘাত হানে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন