পর্তুগালের বিদায়ে ‘রোনালদো-গ্রামে’ শুধুই বিষাদ

পর্তুগালের বিদায়ে ‘রোনালদো-গ্রামে’ শুধুই বিষাদ

ফন্ট সাইজ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের একটা ছোট্ট গ্রাম মিরপুর। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশের সঙ্গে এই গ্রামের যোগসূত্র অনেক পুরানো। প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাস রয়েছে এই গ্রামের সঙ্গে। বর্গীদের হাত থেকে মহিষাদল রাজপরিবারকে রক্ষা করতে গোয়া থেকে জনা বারো পর্তুগিজ গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে এসেছিলেন রানি জানকী। এবং সেই অসমসাহসী পর্তুগিজ রক্ষীদের যুদ্ধ-শৈলীর কারণে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছিল মহিষাদল।
পুরস্কার হিসেবে স্বয়ং মহারানী রূপায়ণ নদীর মিলনস্থলের কাছে গেঁয়োখালির মিরপুরে সেই পর্তুগিজদের একটা গোটা গ্রাম দিয়ে দিয়েছিলেন। যার পর থেকে মিরপুর পর্তুগিজদের গ্রাম। এবং বিশ্বকাপের সময় পুরোদস্তুর সেটি রোনালদো-গ্রাম।

সোমবার রাত পর্যন্ত গ্রামের সকলের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। পুরো গ্রাম সাজানো হয়েছিল পর্তুগালের পতাকা ও পর্তুগাল দলের খেলোয়াড়দের ছবিতে। এবং এতে রোনালদোই ছিলেন প্রধান। সেখানেই মঙ্গলবার সকাল থেকে শুধুই নীরবতা! বিশ্বের ফুটবল মঞ্চে প্রিয়দল পর্তুগাল যে নেই, তা ভাবতেও পারছেন না এই গ্রামের বাসিন্দারা। সেইসঙ্গে ফুটবল জগত থেকে রোনালদোর বিদায় আরও হতাশা বাড়িয়েছে বাংলার পর্তুগিজ বংশোদ্ভূতদের। কিন্তু সোমবার রাতের পর থেকে রোনালদো-গ্রামে শুধুই বিষাদ।

পর্তুগিজ গ্রামের বাসিন্দা শোভার টেসরা বলেন, কষ্ট ও হতাশা থেকেই যাচ্ছে। কারণ এটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপের শেষ খেলা। যা মন ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু এটাই ভালো লাগার যে স্পেনও যীশুকে বিশ্বাস করে।
তিনি বলেন, স্পেন খুবই ভালো একটা টিম। তাই আমি বা আমরা যেটাই বলি না কেনও গড যেটা চেয়েছেন সেটাই হয়েছে। খারাপ লাগলেও এতে কিছু করার নেই।
এই গ্রামের এক রোনালদো ভক্ত বলেন, খেলায় হারজিত আছে। কিন্তু রোনালদোর পায়ের জাদু আর যে দেখতে পাব না, তা ভাবতেই পারছি না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন