পুলিশ হত্যারও তদন্ত হবে

সহযোগীদের খবর

পুলিশ হত্যারও তদন্ত হবে

ফন্ট সাইজ:

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পুলিশ হত্যারও তদন্ত হবে’। খবরে বলা হয়, ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল, ৪৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা যদিও এত কম সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি মানতে নারাজ, তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তদন্তের দাবি ওঠালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তবে নতুন সরকার আসার পর পুলিশ হত্যা এবং স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর তদন্তে গ্রিন স্নিগন্যাল মিলেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র বলেছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের স্থাপনায় হামলা ও সদস্যদের হত্যা করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। দেড় বছরেও তদন্ত না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সরকারের শীর্ষ মহলের কেউ কেউ। এসব ঘটনার মাত্র পাঁচটিতে মামলা হয়েছে; আটক হয়নি কেউ। পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও সরকারের সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। তবে পুলিশের একাধিক ইউনিট হামলার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ এবং আলামত সংগ্রহ করে রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংকেত’ না দেওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর তদন্তের কাজ এগোতে পারেনি। আন্দোলনের সময় কারাগারে হামলা চালিয়ে বন্দি ছিনতাই এবং কারাগারে আগুন ধরিয়ে দেয়াল ও গেট ভেঙে বন্দিরা পালিয়ে গেলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি অনেকে।

এখন পুলিশের স্থাপনায় হামলা-আগুন ও সদস্যদের হত্যার ঘটনা তদন্ত করে মামলা করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বিশেষ বার্তা এসেছে বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনার গভীরে গিয়ে এখন তদন্ত করা হবে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলামত থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা না করায় তদন্ত ও মামলার বিষয়গুলো থমকে ছিল।’ তিনি বলেন, ‘মামলা হলে অনেক রাঘববোয়াল ফেঁসে যেতে পারেন। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তদন্ত অবশ্যই হবে।’
তিনি জানান, কারাগার থেকে যেসব বন্দি পালিয়ে গেছে, তাদের ধরতে বিশেষ অভিযানও হতে পারে। তাদের ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছাত্র-জনতা হত্যাকান্ডে হওয়া মামলাগুলোরও দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। যারা এসবে সরাসরি যুক্ত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।

পুলিশে ক্ষোভ : সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগে ও পরে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা থানা, ফাঁড়িসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র লুট করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের হত্যা করেছে। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। লুটের ঘটনায় পাঁচটি হামলা হলেও বেশিরভাগ ঘটনায় কিছুই হয়নি। কবে মামলা রুজু হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে পুলিশে ক্ষোভ দেখা দিলেও প্রকাশ্যে কথা বলছেন না কেউ। তবে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। সরকার থেকে বিশেষ বার্তা গেছে পুলিশ সদর দপ্তরে। বার্তায় বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের থানাসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলা ও নিহতের ঘটনার তদন্ত করতে হবে।

তদন্ত নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক : পুলিশ সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত ও আসামিদের বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার বাইরে ও ভেতরে এবং আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু দুর্বৃত্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায় তিনটি ও সিএমপির কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা হলেও আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা অনেককে। মামলার বাদী পুলিশ নিজেই।
পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ হত্যা, থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় আরও মামলা হবে দ্রুত। ক্রিমিনাল ইভেন্ট কখনো তামাদি হয় না। পুলিশ হত্যা ও থানায় লুটপাটের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।’

ছায়াতদন্ত হচ্ছে : থানায়, ট্রাফিক অফিস ও বক্সে হামলা চালিয়ে এসি, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল লুট করা হয়। বেশিরভাগ স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নষ্ট করা হয় গুরুত্বপূর্ণ আলামত। লুট করা হয় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র। দুর্বৃত্তদের হামলায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৩ পুলিশ সদস্য মারা যান। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানার মধ্যে ২১টি থানাসহ ২১৬টি স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনে পুড়ে যায় ১৩টি থানা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের টহল গাড়িও। এসব ঘটনায় মামলা হয়নি, তদন্তও শুরু হয়নি। নাম প্রকাশ না করে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত শুরু না হলেও ছায়াতদন্ত হচ্ছে। স্থাপনা ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থী ও নিরীহ লোকদের হত্যা করার বিষয়ে মামলা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ মামলায় নিরীহ লোকজনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। নতুন সরকারের কাছ থেকেও বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছি।’

ডিএমপিতে সিসি ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি : ডিএমপির কয়েকটি থানার সাবেক ওসি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আন্দোলনের সময় আমরা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা বলেছি, সাধারণ শিক্ষার্থী ও লোকজন আন্দোলন করছে। তাদের ওপর গুলি চালানো ঠিক হবে না। এসব বলার পরও আমাদের অনুরোধ ঊর্ধ্বতনরা রাখেননি। আমরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে উত্তেজিত হাজার হাজার মানুষ বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল মারতে থাকে। বাইরে থেকে গুলিও আসতে থাকে। একপর্যায়ে থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করতে থাকে। তাতেও টিকতে না পেরে তারা পোশাক খুলে পালিয়ে যান। যারা পালাতে পারেননি, তারা হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। আমরা চাচ্ছি এসব ঘটনায় থানায় মামলা হোক। তদন্ত হোক। সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হোক। শিক্ষার্থী, নিরীহ লোকজনসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, তার জন্য দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভালো থাকুক, তা আমরা চাই।’

পুলিশের মামলার তদন্তে বিব্রত পুলিশ : আন্দোলন দমাতে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা ও গুলি চালিয়েছে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকাসহ সারা দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং পুলিশের কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের বিরুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলা রয়েছে ৬১২টির মতো। একেকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গড়ে একশোর বেশি মামলা হয়েছে থানা ও আদালতে। ১ হাজার ১৬৮ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে আলোচিত ৬৮টি মামলা। পিবিআইয়ের তদন্তাধীন মামলায় ৯৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা আসামি রয়েছেন। সিআইডিসহ অন্য ইউনিটগুলো অন্য মামলার তদন্ত করছে। আসামির তালিকায় সাবেক আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পদমর্যাদার পুলিশ রয়েছেন। তদন্ত করতে গিয়ে বিব্রত তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এজাহারের সঙ্গে অনেক কিছুর মিল পাচ্ছেন না তারা।

নতুন করে কললিস্ট সংগ্রহ হচ্ছে : সিআইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কললিস্ট সংগ্রহ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিতি ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া, দায়িত্ব পালনের সিসি সংগ্রহ করা (কমান্ড সার্টিফিকেট) হচ্ছে ওইদিন তার কোন এলাকায় দায়িত্ব ছিল, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। কোনো কারণে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোন বাসায় রেখে বা তার সিসি গোপন করে অন্য এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই ওইসব এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত ওইদিনের ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়েকটি টেলিভিশনে ফুটেজ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।
মামলার পরিসংখ্যান: থানা ও আদালতে যেসব মামলা হয়েছে, তাতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যাকা-ে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকায় সর্বাধিক ৩৩৩টি মামলা হয়েছে। তা ছাড়া ঢাকা রেঞ্জে ১৪৮টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২০টি, রাজশাহী রেঞ্জে ২২টি, সিলেট রেঞ্জে ১৫টি, জিএমপিতে ১৬টি, সিএমপিতে ১০টি, এসএমপিতে ৩টি, খুলনা রেঞ্জে ১০টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, আরএমপিতে ৫টি এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৭টি মামলা রুজু হয়েছে।

প্রথম আলো

জনপ্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষায় আরও পরিবর্তন আসছে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল চলছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চুক্তিতে থাকা ৯ জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের নিয়োগ বাতিল, কয়েকজন সচিবকে সংযুক্ত করা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়ে পড়ায় প্রশাসনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি পরিবর্তনের প্রথম ধাপ। সামনে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এখন ১২টি সচিব পদ ফাঁকা

চিবালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, চুক্তি বাতিল ও সংযুক্ত করার ফলে বর্তমানে অন্তত ১২টি সচিব ও সমপর্যায়ের পদ শূন্য হয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) পর্যায়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও ধাপে ধাপে পরিবর্তন আসতে পারে।

এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। আর শ্রমসচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে পিএসসির সচিব করা হয়েছে।
এ ছাড়া গতকাল অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব পদে চুক্তি ভিত্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পদায়ন নিয়ে আলোচনা

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে কিছু পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বড় প্রশ্নটি হলো, নিয়োগ ও পদায়নে যেন মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আবার কেউ যেন অহেতুক সমস্যায় না পড়েন, সেটিও দেখা উচিত। পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পদায়ন ও বদলি নিয়ে তদবির বেড়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাপক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টিও এখন আলোচনার মধ্যে রয়েছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, ওই সময় চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে একান্ত অপরিহার্য ছাড়া নতুন করে আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার কথাও বলছেন অনেকে।

জনপ্রশাসনে প্রথম ধাপের রদবদল
সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই জনপ্রশাসনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিন সচিবকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তাঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।

একই সঙ্গে চুক্তিতে থাকা নয়জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে যান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক এই তিন অতিরিক্ত সচিবকে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে পদোন্নতির মাধ্যমে এসব পদে দায়িত্ব দিয়েছিল।

নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, যিনি আগে বিএনপি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ছিলেন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা চূড়ান্ত: সুবিধা পাবে না ছয় শ্রেণির মানুষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে সে পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে না। তেমনি বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিকও এ সুবিধা পাচ্ছেন না। নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের মধ্যে ছয় শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রেখে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও যারা কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না, তারা হলেন-পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক বা বড় ব্যবসা থাকলেও এ কার্ড পাওয়ার অযোগ্য হবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ নামে এ নীতিমালা করেছে। এ কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে-‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। নীতিমালাটি খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। এদিকে, আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র মতে, নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে-ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার এ কার্ড পাবেন। এছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠী- হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিকও পাবেন এ কার্ড।

প্রসঙ্গত, বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা ছিল দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে কার্ড বিতরণের নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ নীতিমালাটি তৈরি করেছে। মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশ্য বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। ওই দিন একযোগে ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচির সূচনা করা হবে এবং তা ধারাবাহিকভাবে চলবে। আশা করছি এই পাইলট কর্মসূচি আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা এর আওতায় আসবে।

সূত্র মতে, নীতিমালায় কার্ডের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা এ কার্ড পাবেন। এ কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৬ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে ২ কোটি দরিদ্র পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া এই কর্মসূচি চালু হলে সব নগদ ভাতা ও টিসিবির সহায়তা এক কার্ডের অধীনে চলে আসবে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য চলতি বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। কিন্তু কোনোভাবে টাকা ছাপিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সঠিক হবে না। কারণ এতে মূল্যস্ফীতি আরেক দফা বেড়ে যাবে। সীমিত পরিসরে এ কর্মসূচি চালু হচ্ছে এটিও ঠিক আছে। তবে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে কিন্তু পরিবারের ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, সে পরিবারকেও অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। এদিকে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, দেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলছে। কিন্তু এর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রায় ২২-২৫ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্ররা বাদ পড়ছেন। এসব সমস্যা দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা।

কালের কণ্ঠ

সক্ষমতা হারিয়ে ধুঁকছে বেসরকারি খাত’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত বর্তমানে কার্যত রুগ্ণ। গত কয়েক বছরের সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, তীব্র জ্বালানিসংকট এবং ডলারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে গত দেড় বছরের অস্থির সময়ে শিল্পের প্রত্যাশিত বিকাশ না হওয়ায় দেশে নতুন বিনিয়োগ হয়নি বললেই চলে। এমন এক ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফেরাতে এবং স্থবির অর্থনীতিকে টেনে তুলতে নতুন সরকারের নীতির দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন উদ্যোক্তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের দ্রুত আস্থায় নিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

রেকর্ড নিচে ঋণের প্রবৃদ্ধি: দেশের জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৭৮ থেকে ৮৬ শতাংশ। আর কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.১ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
উচ্চ সুদহারের (১৬-১৭ শতাংশ) কারণে ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সরকার: উদ্যোক্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করা নতুন রাজনৈতিক সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ (৩৫.৭৩ শতাংশ), বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২২.৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে।

কিভাবে সক্ষমতা হারিয়েছে বেসরকারি খাত: ব্যবসায়ীরা বলছেন, সক্ষমতা হারানোর কারণগুলো স্পষ্ট ও বহুমুখী। প্রথমত, উচ্চ সুদহার (১৬-১৭ শতাংশ) ঋণ গ্রহণকে অসম্ভব করে তুলেছে। ফলে তাঁরা নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে বা উৎপাদন সম্প্রসারণ করতে পারছেন না।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অপরিবর্তিত পলিসি রেটের কারণে ব্যবসায়ীরা এখন ১৬-১৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিচ্ছেন, যা নতুন বিনিয়োগকে নিরুৎসাহ করছে। ’ ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার হচ্ছে না, যা লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সারের বাড়তি দর, চাপে কৃষক ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা’। খবরে বলা হয়, খুলনার কয়রার গাতিঘেরি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ মণ্ডল এবার বোরো ধান চাষ করেছেন আট বিঘা জমিতে। মৌসুমের শুরুতে সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পেরেছেন। তবে মৌসুমের মাঝামাঝি এসে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৬ টাকা বেশিতে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে তাঁকে। এ ছাড়া টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার কিনতে গিয়ে কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে শ্রমিক ও সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষাবাদে এবার লোকসানের শঙ্কায় আছেন এ কৃষক।

বোরো মৌসুমের শুরুতে দেবাশীষ মণ্ডলের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। সেই ব্যস্ততার ভেতরেই জমছে উদ্বেগ। কৃষকের স্বস্তি নেই। কারণ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক আবাদ কমানোর কথা ভাবছেন। সরকার আসে, সরকার যায়; সারের সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি নেই কৃষকের।

সরকারি হিসাবে সারের সংকট নেই। বিএডিসি বলছে, গুদামে সার রাখার জায়গা পর্যন্ত নেই। অথচ মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত এক বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ২৫০ টাকা হলেও কৃষককে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকা। ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও চিত্র একই। বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা শুধু উৎপাদন খরচই বাড়িয়ে দিচ্ছে না; খাদ্য নিরাপত্তাকেও শঙ্কায় ফেলছে।

কৃষকের অভিযোগ, কৃষিপণ্য উৎপাদনের মৌসুমে ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। নজরদারির অভাবে বেপরোয়া ডিলার-খুচরা বিক্রেতা চক্র সারাদেশে সারের দামে অরাজকতা তৈরি করেছে। রয়েছে সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ। অভিযানের খবর পাওয়া গেলেও তা মাঠে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো মৌসুমে। এই সময়ে সারের বাজারে অনিয়ম চলতে থাকলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, এতে ফলনে ধাক্কা লাগবে। শেষ পর্যন্ত বাজারে চালের দামে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বরাদ্দ ও মজুতের হিসাব নয়; মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারক জরুরি।

কাগজে মজুত, বাজারে অস্থিরতা

এখন বোরো মৌসুম। দেশের প্রায় ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়। এই মৌসুমে সোয়া ২ কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়, যা সারাবছরের চাল সরবরাহের প্রধান ভরসা। বোরো সম্পূর্ণভাবে বীজ, সার ও সেচনির্ভর। উপকরণের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। শুধু ধান নয়। এই সময় আলু, পেঁয়াজ, সরিষা, বিভিন্ন সবজি উৎপাদনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। ফলে সারের বাজারে অস্থিরতা মানে পুরো খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা।
গত আমন মৌসুমেও দেড় কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে, যা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন। ফলন ভালো হলেও কৃষকের বাড়তি দামে সার কিনতে হয়েছিল। কিছু অভিযানে ডিলারদের জরিমানা করা হলেও বাজারদর কমেনি।

ইত্তেফাক

আস্থাহীনতার শেয়ার বাজারে নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, মানসম্মত কোম্পানির ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এ প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না তা এখন একটি বড় প্রশ্ন। নির্বাচনের পর আট কার্যদিবসের মধ্যে দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান হলেও ছয় কার্যদিবসই দরপতন দেখেছে। বাজারে শেয়ারের দরের এই ওঠানামা কি স্বাভাবিক, নাকি গভীর সংকটের লক্ষণ? কেন বাজার বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও স্থিতিশীল হতে পারছে না?
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নানা কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি। ভালো শেয়ারের জোগান না থাকায় বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) উন্নত বিশ্বের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগাতে পারছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে।
শেয়ার বাজারের ভেতরের মৌলিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত কিছু সমস্যা রয়েছে। যা দীর্ঘ মেয়াদে বাজারকে অস্থির, অগভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয়ই দীর্ঘদিন ধরে একটি মৌলিক সমস্যায় ভুগছে। তা হলো, ভালো ও বড় মূলধনী কোম্পানির স্বল্পতা। উন্নত বাজারে যেমন ব্লু-চিপ কোম্পানি সূচকের মূল ভিত্তি গড়ে, বাংলাদেশে তেমন কোম্পানির সংখ্যা সীমিত। তালিকাভুক্ত বহু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন দুর্বল, করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ, ডিভিডেন্ড অনিয়মিত। ফলে সূচক ওঠানামা করে অল্প কয়েকটি বড় কোম্পানির ওপর নির্ভর করে। এখানে লিকুইডিটি সংকট দীর্ঘস্থায়ী। বড় বিনিয়োগকারী ঢুকতে চাইলে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, আবার বের হতে গেলে বাজারে ধস নামে। বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো, ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’, প্লেসমেন্ট শেয়ারের অপব্যবহার ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। ডিএসই দেশের মূল বাজার হলেও, তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নজরদারি কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন আছে। ট্রেডিং সিস্টেম আধুনিক হলেও মার্কেট সার্ভেইল্যান্স কতটা কার্যকর? ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর পরিচালনায় স্বচ্ছতা কতটা বেড়েছে? সিএসই তুলনামূলক ছোট, লেনদেন কম, বাজার প্রভাব সীমিত। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রতিযোগিতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নয়। উন্নত দেশে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো স্বশাসিত হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রক নজরদারির আওতায় চলে। স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি ও বাজার গভীরতা তিনটি স্তম্ভেই তারা এগিয়ে।

আস্থার সংকট: গত দেড় দশক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেয়ার বাজারে বড় উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০-১১ সালের বুদবুদ ও ধস এখনো বিনিয়োগকারীদের স্মৃতিতে তাজা। পরে একাধিকবার সূচক বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি। এই দীর্ঘ অস্থিরতার মধ্যে এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। নির্বাচনের পর শেয়ার বাজারে দুই কার্যদিবস বড় উত্থান ছিল প্রত্যাশা-নির্ভর। কিন্তু টানা দরপতন ইঙ্গিত দেয় আস্থা এখনো ভঙ্গুর। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএসইসি আইপিও নীতিমালা, মার্জিন ঋণ নীতিমালা, ক্যাটাগরি রিভিউসহ বেশ কিছু সংস্কার করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সংস্কার কি যথেষ্ট? পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বাজারের উন্নয়নে দ্রুত ভালো কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসতে হবে ও রেগুলেটরি বডি রিফর্ম করতে হবে। সাইফুল ইসলাম বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেন সরকারের অধীন না হয়ে আইন অনুযায়ী কাজ করে কিন্তু একই সঙ্গে জবাবদিহির মধ্যে থাকে। বিএসইসির কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, জবাবদিহি ও প্রয়োগ ক্ষমতা আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।

বিনিয়োগ শিক্ষা: দেশে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় বাজারে প্রবেশ করে। ফান্ডামেন্টাল বিশ্লেষণ, ক্যাশ ফ্লো, ঋণ-ইকুইটি অনুপাত এসব বিষয়ে সচেতনতা কম। ফলে গুজবভিত্তিক লেনদেন বাড়ে। উন্নত বাজারে ইনভেস্টর এডুকেশন প্রোগ্রাম বাধ্যতামূলক ও কাঠামোগত। বাংলাদেশে তা সীমিত এবং প্রভাবহীন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)-এর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ শিক্ষায় আগ্রহ কম কেন? এ বিষয়টা নিয়ে গবেষণা দরকার। অনেক বিনিয়োগকারী জানেই না, বিনিয়োগ শিক্ষার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। বিআইসিএম-এর এই নির্বাহী প্রেসিডেন্ট বলেন, বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত হলে দেশের শেয়ার বাজারের গভীরতা বাড়বে, গুজব নির্ভর লেনদেন কমে যাবে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম সড়কে ‘অদৃশ্য টোলপ্লাজা’। খবরে বলা হয়, ভোরবেলা রাজধানীর ব্যস্ত প্রবেশপথ। দূরপাল্লার বাসের সারি। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা-সবাই একে একে থামছে। কোনো টোলপ্লাজা নেই, সরকারি কাউন্টার নেই, রসিদ নেই। তবুও হাত বদল হচ্ছে টাকা। কয়েকজন দাঁড়িয়ে গাড়ি থামাচ্ছে, চালকের হাতে চাপিয়ে দিচ্ছে একটি টোকেন, তারপর নিচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্ক। কেউ প্রশ্ন করছে না, কেউ প্রতিবাদ করছে না। এই দৃশ্য আজকের বাংলাদেশের সড়কে নতুন নয়- এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী থেকে দক্ষিণ-পূর্বের কক্সবাজার-দেশের প্রায় প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কেই চলছে এক অদৃশ্য ‘টোলব্যবস্থা’। তবে এটি রাষ্ট্রের নয়, নিয়ন্ত্রণ করছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।

মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলোর দাবি- প্রতিদিন শত কোটিরও বেশি টাকা আদায় হচ্ছে। বছরে তা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩,৬০০ কোটির ওপরে। অর্থনীতির ভাষায়, এটি এক বিশাল ‘শ্যাডো ইকোনমি’- যা চোখের সামনে থাকলেও হিসাবের বাইরে।

কিভাবে চলছে চাঁদার কারবার: চাঁদাবাজির পদ্ধতি এখন বেশ ‘স্মার্ট’। কোথাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে নগদ আদায়, কোথাও সংগঠনের ব্যানারে মাসিক চুক্তি, আবার কোথাও গাড়ির কাচে টোকেন লাগিয়ে মাস শেষে টাকা সংগ্রহ। নাম দেয়া হয়- শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড, মালিক সমিতি চাঁদা, নিরাপত্তা ফি, লাইন মেইনটেন্যান্স ইত্যাদি।

বাসচালক রফিকুল বলেন, ‘চাদা না দিলে গাড়ি ছাড়বে না। ঝামেলা করলে মারধর করে। তাই চুপচাপ দিয়ে দেই।’ অনেক চালকের ভাষায়, এটি ‘নিরাপত্তা ফি’- দিলে ঝামেলা নেই, না দিলে বিপদ।

প্রকাশ্য লুটের চিত্র: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনিরআখড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাস থামিয়ে ৫-৭ জনের একটি দল লাইন ধরে টাকা নিচ্ছে। পাশেই মোটরবাইক চালকরা দাঁড়িয়ে দেখছেন।

একজন বলেন, ‘আগে এক-দুইজন ছিল। এখন পুরো টিম। যেন জমিদারি।’ চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বরোড এলাকায় ট্রাকচালকদের অভিযোগ- মাল নামানোর আগে, পরে-দুইবারই টাকা দিতে হয়। বিভিন্ন নামে আলাদা আলাদা কালেকশন।

না দিলে মারধর, কখনো মৃত্যু

চাঁদাবাজি এখন শুধু অর্থ নয়, সহিংসতার রূপও নিয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এক লেগুনাচালককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সামান্য টাকা নিয়ে বচসা থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনা একক নয়। বিভিন্ন এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারধর, গাড়ি ভাঙচুর এখন নিত্যদিনের বিষয়।

বণিক বার্তা

রাষ্ট্রীয়ভাবে গম কেনার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমেছে বাংলাদেশের আমদানি’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত বছর ২৫ অক্টোবর দুপুরে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি নর্স স্ট্রাইড’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্রের গমের চালান নিয়ে আসে। এ চালানে ছিল ৫৬ হাজার ৯৫৯ টন গম।

এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করে বাংলাদেশ। এভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে একাধিক চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ টন গম আমদানি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গমের পাশাপাশি সয়াবিনও আমদানি হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর জোর তৎপরতা ছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি (বা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি) ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে আমদানির অর্থমূল্য ছিল ৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে আমদানি হয়েছে ৬৭ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের।

ব্যাংকার ও সরকারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য চুক্তির দরকষাকষির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালেই ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি শুরু করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। ফলে দেশটি থেকে আমদানি কমার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যানে আমদানি চিত্র নেতিবাচক কেন তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ব্যক্তিখাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গম আমদানির অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করেছে সিঙ্গাপুরে। আবার বেসরকারি খাত যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি করলেও তার বিপরীতে অর্থ পরিশোধ হয়েছে সিঙ্গাপুরে। এ কারণে পরিসংখ্যানগতভাবে আমদানির অর্থমূল্যে ব্যয়ের প্রতিফলন আসতে দেরি হয়ে থাকতে পারে।

শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে পণ্য আমদানির বিপরীতে অর্থ যে দেশেই পরিশোধ হোক না কেন, তার প্রতিফলন পণ্যের উৎস দেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা যাওয়ার কথা। কারণ দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানি জার্মানিতে হলেও অর্থ পরিশোধ হয়েছে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে। কিন্তু তাতেও জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিসংখ্যানে রফতানির বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের প্রতিফলন দেখা যায়। অর্থাৎ অর্থ তৃতীয় কোনো দেশ থেকে এলেও পণ্য জার্মানিতে পাঠানো হলে রফতানি পরিসংখ্যানে তা প্রতিফলিত হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে অর্থ যে দেশেই পরিশোধ হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির পরিসংখ্যানে সেই প্রতিফলন দৃশ্যমান হওয়ার কথা। কিন্তু পরিসংখ্যানে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি কমল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন রয়েছে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার ‘পিলখানা হত্যার দুই মামলা নিষ্পত্তি হয়নি ১৭ বছরেও’। খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় দণ্ডিতদের এবং রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি আপিল বিভাগে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলাটি ঘটনার ১৭ বছর পরও বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের স্বজন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজসংকেত ছিল এবং ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।

নবগঠিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করা হবে জানিয়ে গত সোমবার বলেছেন, প্রয়োজনে স্বাধীন কমিশন গঠন করে তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার-প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। বিএনপির ইশতেহারেই বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের অঙ্গীকার রয়েছে।

২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার কিছু দিন পর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডি ঘটে। ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। নারকীয় সেই হত্যাযজ্ঞের ১৭তম বার্ষিকী আজ। গত বছর দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা দেয় সরকার।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২৫৬ জনকে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন।

একই ঘটনায় করা বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ২০ জন। বিচারিক আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

জনপ্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপ্রশাসনে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের কর্মকর্তাদের হাতেই ছিল পুরো প্রশাসন পরিচালনার চাবি। সেই বিশেষ কর্মকর্তাদের বলয় ভেঙে নতুনদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। একই সঙ্গে সরকার কর্মস্থলে কাজের গতি ফেরানো এবং অফিস সময় নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যেই সকাল ৯টায় অফিসে আসা নিশ্চিত করতে আদেশ জারি করা হয়েছে। যার ব্যত্যয় হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথের পরের দিন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয়ে অফিস শুরু করেন। শুরু থেকেই সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে অফিসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ঠিকমতো আসছেন কি না, সেই খোঁজও রাখছেন। সচিবালয়ে সব শ্রেণির কমকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং বিভিন্ন সংস্থাপ্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শের কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে এই আশঙ্কায় আছেন। সূত্র মতে জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে চায় সরকার। ব্যাচভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের নির্দেশনা আসতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, বিগত বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আদর্শের কর্মকর্তাদের পদায়ন করে। বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা বঞ্চিত ছিলেন এসব পদায়নের ক্ষেত্রে। যে কারণে ওই সব আদর্শের অতি উৎসাহী দলবাজ সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবদের বদলি এবং প্রয়োজনে ওএসডি করা হতে পারে। প্রকল্প পরিচালকদের নিয়োগও বাতিল হবে অনেকের। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রশাসনের চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সচিবরা সরকারের অংশ। কোনো দলের নয়। সবারই একটা ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে। কে কোন দলের আদর্শ ধারণ করছেন, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, আমরা মেধা এবং কাজ দিয়ে আপনাদের মূল্যায়ন করব।
অন্য একটি সূত্র জানায়, মেধাবী এবং যোগ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে বিশেষ আদর্শে নিয়োগ পাওয়াদের সরিয়ে নতুন মুখ আনতে চায় সরকার। ইতোমধ্যেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল এবং তিন সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকালও সচিব পর্যায়ে কিছু রদবদল হয়েছে।

২ সচিবের দপ্তর বদল হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে চুক্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব করা হয়েছে।
এর আগে নতুন সরকার গঠন হলে সরানো হতে পারে এমন আশঙ্কায় নিজে থেকে সরে যান মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিব। তবে এখন এই দুটি পদে যারা আছেন তারাও চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন।

চুক্তির বাইরেও কিছু নিয়মিত সচিব পদে রদবদল আসতে যাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার আঁকড়ে আছেন অনেক অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তমন্ত্রণালয় পরিবর্তন হবে। প্রশাসন ঠিক করার অংশ হিসেবে ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে নিচের দিকে নামতে চায় সরকার। দ্রুতই জনপ্রশাসনে নিয়োগ পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ (এপিডি) নিয়োগ দেওয়া হবে। এপিডি শাখা থেকেই সব পর্যায়ের নিয়োগ ও রদবদল হয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি কয়েক মাস ধরে শূন্য।

জানতে চাইলে সাবেক সচিব এ কে এম আউয়াল মজুমদার বলেন, নতুন সরকার হলে কিছু রদবদল হয়। কাজের গতি ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়। সত্যিকারের যোগ্য মেধাবী কর্মকর্তা হলে কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কর্মকর্তাদের দলদাস হওয়া উচিত নয়।

hossain md amir

৩ মাস আগে

তবে নতুন সরকার আসার পর পুলিশ হত্যা এবং স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর তদন্তে গ্রিন স্নিগন্যাল মিলেছে।---এই হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রের উপরে আঘাত এর বিচার হতেই হবে! আর যিনি এই বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছেন তার বিচার অবশ্যই এদেশের মাটিতেই করতে হবে!

Syed Hoque

৩ মাস আগে

১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে কিছু পুলিশ হাসিনার তাবেদারী করেছে। মানুষকে অনেক জুলুম নির্যাতন, খুন, গুম, মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে কারাগারের অন্তরালে পাঠিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই বিষয়গুলো যেনো সরকার মাথায় রাখে।

মন্তব্য করুন