সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি

ফন্ট সাইজ:

তিনটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। গতকাল কিশোরগঞ্জ, রাঙ্গামাটি ও নড়াইলে এই তিন দুর্ঘটনা ঘটে।
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, পাকুন্দিয়ায় ঢাকাগামী যাত্রাবাহী বাস অনন্যা ক্লাসিকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গরুবাহী পিকআপে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, পিকআপে থাকা ছয়টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পিকআপে থাকা আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সোমবার বিকালে কিশোরগঞ্জ-গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার সদর গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে পিকআপচালক খোকন মিয়া (৩৯), একই উপজেলার কুন্দারপাড়া গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে বিল্লাল (৩৫) এবং একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে খুর্শিদ উদ্দিন (৬০)। আহতরা হলেনÑ বাসচালক শিবপুর ইটাখোলা এলাকার মান্নান সরকার (৫০) ও চালকের সহযোগী একই এলাকার আমান (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে একটি গরুবোঝাই পিকআপ নরসিংদীর দিকে যাওয়ার সময় সোমবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী অনন্যা ক্লাসিকের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালকসহ তিনজন নিহত হন। এ সময় পিকআপে থাকা সাতটি গরুর মধ্যে ছয়টি গরু মারা যায়। এ ছাড়া, অনন্যা ক্লাসিকের চালকসহ সহযোগী গুরুতর আহত হন। এতে বাস ও পিকআপ দু’টি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পাকুন্দিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পাকুন্দিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গরুবোঝাই পিকআপ থেকে ড্রাইভারসহ নিহত তিনজনকে উদ্ধার করি। অনন্যা ক্লাসিক বাসের ড্রাইভারসহ আহত দুইজনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, লংগদু উপজেলায় মাহিন্দ্রা পিকআপ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার লংগদু উপজেলার ইসলামবাদ এলাকার নাজিমটিলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইট্টাপাড়া থেকে দীঘিনালাগামী একটি মাহিন্দ্র এবং সোনাই ৫ নম্বর এলাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইসলামবাদের নাজিমটিলা এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে রাবেতা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া দুই বছরের শিশু রিফাত মৃত্যুবরণ করে। আহত অপর পাঁচজন এখনো চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোনাই ৫ নম্বর এলাকা থেকে আসা অটোরিকশাটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। নাজিমটিলা এলাকায় একটি মোড় ঘোরার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বিপরীত দিক থেকে আসা মাহিন্দ্রের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে মাহিন্দ্রে থাকা যাত্রীরা অক্ষত থাকেন। লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকারিয়া জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দু’টি জব্দের চেষ্টা চলছে।
নড়াইল প্রতিনিধি জানান, লোহাগড়া উপজেলার নলদী এলাকায় ট্রাকচাপায় ঘুমন্ত কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত কিশোরীর নাম সেতু। সে স্থানীয় নলদী বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজারের মেয়ে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তার আরেক বোন নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ও নড়াইল সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত গভীর রাতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী বাজারের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি ঘরের উপর গিয়ে পড়ে। ওই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল নলদী এলাকার বাসিন্দা কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজারের পরিবারের সদস্যরা। ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই হাফিজারের মেয়ে সেতুর মৃত্যু হয়। সেতুর আরেক বোন গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখি জানান, রোববার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী বাজারের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন