দফায় দফায় বিক্ষোভে ফের উত্তাল পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর (পিওকে)। অঞ্চলটিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান। তার অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কঠোর অভিযানের ফলে অঞ্চলটিতে কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমান খানকে বলতে শোনা যায়, আমাদের ভারতের সাহায্য দরকার। এখানে খাদ্যসামগ্রীর সংকট রয়েছে... আমাদের আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, পাক নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ার পর সাধারণ মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, আমরা কি নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) দিকে এগিয়ে যাব?
এর জবাবে উপস্থিত জনতা বারবার স্লোগান দেয়, এগিয়ে চলুন। আমান খান আরও বলেন, জনগণের দাবির জবাব যদি গুলি দিয়ে দেয়া হয়, তাহলে আমাদের সামনে অন্য পথও রয়েছে।
তিনি পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। তার দাবি, পাকিস্তান বাহিনীর দমনপীড়নের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ৩০ জুনের ওই সমাবেশের বলে দাবি করা ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
পিওকেতে চলমান অস্থিরতা
গত মাস থেকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। গত সপ্তাহে রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বড় সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা “পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়” এবং “আমরা স্বাধীনতা চাই”- এমন স্লোগান দেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় বিভিন্ন সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদ নিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বকে সামনে এনেছে।
তাদের মতে, পাকিস্তান সরকার জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দমন করার চেষ্টা করছে।
চলতি বছরের ৫ জুন পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকেই পিওকেতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ মূলধারার পাকিস্তানি রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে পিওকে ও পাকিস্তান-অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, পিওকে ও গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচনে সাধারণত সেই দলই জয়ী হয়- যা কেবল কাকতালীয় বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
